
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 4 January 2025 15:20
প্রত্যেক বাড়িতে মিটার রয়েছে। কিন্তু কোনও বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই। এভাবেই ১২ বছর ধরে অন্ধকারে কাটাচ্ছেন শিলিগুড়ির একটি গ্রামের বাসিন্দারা। কোনও এক অজানা কারণে আজও তাঁদের ঘরে আসেনি বিদ্যুৎ। এবার নতুন বছরে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চান তাঁরা।
শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া ব্লকের পূর্ব রঙ্গিয়া গ্রামের বাসিন্দাদের এমনই করুণ অবস্থা। নতুন বছরে তাঁদের এই সমস্যার প্রতিকার চাইছেন গ্রামের সকলে। এক গ্রামবাসী শকুন্তলা রায়ের বক্তব্য, সূর্য ডুবে গেলেই চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়। কোনও আলো থাকে না কোথাও। বিকেল ৫টা বাজার আগেই সমস্ত কাজ সেরে ফেলতে হয়। তারপর কোনও কাজ করতে গেলে হ্যারিকেন, মোমবাতিই সম্বল।
একই অভিযোগ সঞ্চিতা, সন্ধ্যার মতো গ্রামবাসীর। সঞ্চিতা বলেন, বিডিও-ডিএম অফিসে সমস্যার কথা একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এত বছরেও কোনও কাজ হয়নি। নতুন বছরেও তাঁরা বিদ্যুৎ পাবেন কিনা, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। তবে জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগেই তাঁদের সঙ্গে কথা বলে গেছেন পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা মানবেন্দ্র সিনহা। তিনি বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে কথা বলবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মানবেন্দ্র সিনহার বক্তব্য, ৫০টির বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই বলে তিনি জানতে পেরেছেন সম্প্রতি। কেন নেই বা এতদিনে কেন হয়নি, তা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। তবে দ্রুত সম্ভব এই গ্রামে বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হবে বলেই আশ্বাস দিয়েছেন পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা। শীতকালে আপাতত আলাদা ট্রান্সফরমার বসিয়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রামবাসীরা বলছেন, শীতের সময়ে কোনওভাবে দিন কাটানো গেলেও গরমকালে ঘরের মধ্যে থাকা কার্যত দুষ্কর হয়ে ওঠে। সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে মেয়েদের কাজকর্মে বিরাট অসুবিধা হয়। তাঁরা বেশিরভাগ সময়ে ঘর ছেড়ে পাশের গাছের ছাউনি বা বাগানে গিয়ে দিন কাটান। তাই নতুন বছরে আর কিছু নয়, শুধু বিদ্যুৎ চায় শিলিগুড়ির এই গ্রামের বাসিন্দারা।