Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
মাতৃত্বের দুশ্চিন্তা, ‘ভাল মা’ হওয়ার প্রশ্ন—সদগুরুর পরামর্শে স্বস্তি পেলেন আলিয়ালক্ষ্য ২০২৯ লোকসভা ভোট, তড়িঘড়ি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকরে মরিয়া মোদী! বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি কংগ্রেস?Gold investment: যুদ্ধের বাজারে সোনার দাম কমছে! এটাই কি বিনিয়োগের সেরা সময়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরারহস্য আর মনের অন্ধকারে ঢুকে পড়ল ‘ফুল পিসি ও এডওয়ার্ড’! টিজারে চমকজিৎ-প্রযোজক দ্বন্দ্বে আটকে মুক্তি! ‘কেউ বলে বিপ্লবী, কেউ বলে ডাকাত’-এর মুক্তি বিশ বাঁও জলে?কিউআর কোড ছড়িয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ! কীভাবে রাতারাতি নয়ডার বিক্ষোভের প্ল্যানিং হল, কারা দিল উস্কানি?নয়ডা বিক্ষোভ সামাল দিতে 'মাস্টারস্ট্রোক' যোগী সরকারের! শ্রমিকদের বেতন বাড়ল ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত Jeet: ভুয়ো প্রচার! ভোট আবহে গায়ে রাজনীতির রঙ লাগতেই সরব জিৎ৪ হাজার থেকে নিমেষে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ফলোয়ার! এক স্পেলেই সোশ্যাল মিডিয়ার নতুন তারকা প্রফুল্লসামনে কাজল শেখ, মমতা কথা শুরু করতেই হাত নেড়ে বিরক্তি প্রকাশ অনুব্রতর! সিউড়িতে কী ঘটল

শাঁখার আঁতুড়ঘর রাজ্যের এই জেলায়, ছোট্ট গ্রাম থেকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে শ্বেতশুভ্র গহনা

এই গ্রামের ৯০ শতাংশ মানুষই শাঁখা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের হিন্দুদের পাশাপাশি এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও এই কাজ করেন।

শাঁখার আঁতুড়ঘর রাজ্যের এই জেলায়, ছোট্ট গ্রাম থেকে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে শ্বেতশুভ্র গহনা

নিজস্ব চিত্র

শেষ আপডেট: 22 November 2024 16:22

মামিনুল ইসলাম 

কথিত আছে, স্বামীর মঙ্গল কামনায় শাঁখা পরে থাকেন বাঙালি মহিলারা। এটা বিয়েরই একটা চিহ্ন। হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী শাঁখা ছাড়া বিয়ে অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণের মতে, প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে মহাভারতের সময়কাল থেকে শাঁখার ব্যবহার শুরু হয়। রয়েছে বিরাট ইতিহাস। এই শাঁখা দেশ-বিদেশে পৌঁছয় বাঙালি শিল্পীদের হাত ধরে। রাজ্যেই রয়েছে শাঁখার আঁতুড়ঘর। 

মুর্শিদাবাদের ডোমকল, সেখানে রয়েছে বাজিতপুর গ্রাম। শাঁখার জন্য বিখ্যাত দেশে। মুর্শিদাবাদের এই গ্রামে ঘরে ঘরে তৈরি হয় হরেকরকমের নকশার শাঁখা। কলকাতা থেকে দিঘা, মালদহ, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার জলপাইগুড়ি-সহ ত্রিপুরা ও অসমেও এখান থেকেই শাঁখা রপ্তানি হয়। বাংলাদেশেও কদর রয়েছে বাজিতপুরের শাঁখার। 

এই গ্রামের ৯০ শতাংশ মানুষই শাঁখা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের হিন্দুদের পাশাপাশি এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনও এই কাজ করেন।

শিল্পীরা জানিয়েছেন, চেন্নাই ও শ্রীলঙ্কা থেকে শাঁখা তৈরির কাঁচামাল শাঁখ আসে এই গ্রামে। বেশ কয়েকবছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন সৈয়দ ইসলাম বাবু। তিনি জানিয়েছেন, শাঁখা তৈরি হতে বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় তাঁদের। প্রথমে কাটা হয়, তারপর গ্রাইন্ডারে যায়। সাইজ করতেই সময় লাগে অনেকটা। তারপর আরও কয়েকটি প্রক্রিয়ার পর নকশা কাটা হয়।

এই গ্রামেরই বাসিন্দা রিন্টু সাহা। তিনি শাঁখার কারিগর। প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ পিস শাঁখা তৈরি করেন। তাঁর কথায়, কাঁচামাল আসে মূলত কলকাতা থেকে। এছাড়াও একাধিক জায়গা রয়েছে। কাঁচামাল এনে কাজ শুরু হয়। 

এই বাজিতপুরে ৫০ জনেরও বেশি শাঁখা ব্যবসায়ী রয়েছেন। সারা বছর এখান থেকে পাইকারি দরে শাঁখা বিক্রি হয়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনে দিনে শাঁখার চাহিদা বেড়েছে। অন্যান্য সময়ে থেকে পুজোর মরশুমে ৩০ শতাংশ বেশি বিক্রি হয় শাঁখা। 

এবিষয়ে ব্যবসায়ী সুখেন পাল বলেন, 'বাবা-ঠাকুরদাদার আমল থেকেই শাঁখা বিক্রি করি। ব্রেসলেট, মানতাসা, চুড়ি বালা, একাধিক ডিসাইনের শাঁখা তৈরি হয়।'

ব্যবসা ঠিকঠাক চলছে, বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর মুখে এমন কথা শোনা গেলেও বেশ কয়েকজন আক্ষেপ করে বলেন, 'রাজ্যে শাঁখা শিল্পের জন্য বিখ্যাত বাজিতপুর। তবে, সরকারের কোনও সাহায্য পাওয়া যায় না। লোন ইত্যাদিও পাওয়া যায় না।'


```