দ্য ওয়াল ব্যুরো: আতঙ্কের নতুন নাম ওমিক্রন। কোভিডের পরপর দুটি ঢেউয়ের ধাক্কা সামলে ঠিক যখন সারা দেশে কোভিডের গ্রাফ নিম্নমুখী হচ্ছিল,তখনই নতুন করোনা ভাইরাসের নতুন স্ট্রেন ওমিক্রনের খবর ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই স্ট্রেন ততটা বিপজ্জনক নয়, তবে এর সংক্রমণের হার যে অত্যন্ত বেশি, তাতে সন্দেহ নেই কারও।
এই পরিস্থিতিতে কানপুর আইআইটির বিজ্ঞানী মনীন্দ্র আগরওয়ালের আগাম সতর্কবার্তা, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতেই কোভিড সংক্রমণ ফের শিখর ছোঁবে। ওমিক্রন ছড়াবে হু হু করে। দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা ১ থেকে দেড় লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে যেভাবে বাড়ছে ওমিক্রন সংক্রমণ, ভারতেও যেমন লাফিয়ে লাফিয়ে খোঁজ মিলছে নতুন রোগীর, তাতে দেশে ফের করোনার নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ার সম্ভাবনাই প্রকট হচ্ছে।
চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের দাপটে টালমাটাল পরিস্থিতি হয়েছিল দেশে। বহু মানুষ মারা গেছেন মারণ ভাইরাসের কামড়ে। দ্বিতীয় ঢেউ স্তিমিত হওয়ার সময় থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছিল, এবার কি মারণ ভাইরাসের তৃতীয় ঢেউও আছড়ে পড়বে দেশে, তাতে কতটা ক্ষতি হবে! এবার কোভিডের অতি শক্তিশালী স্ট্রেন ওমিক্রন ইতিমধ্য়েই হানা দিয়েছে দেশের একাধিক রাজ্যে। তাহলে কি লকডাউনের পথেই ফের হাঁটতে হবে!
কানপুরের বিজ্ঞানী আগরওয়ালের আন্দাজ তেমনটাই। দীর্ঘদিন মহামারী নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। তাঁর আন্দাজ, করোনার তৃতীয় ঢেউ থেকে রেহাই পাবে না দেশ। তবে এর প্রভাব দ্বিতীয় ঢেউয়ের মতো হবে না বলেই মনে করছেন তিনি। কিন্তু সংক্রমণ ছড়াবে দ্রুত।
প্রসঙ্গত, আগামী বছরের শুরুতেই পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুরে নির্বাচন। ফলে সেই সময়ে নতুন করে সংক্রমণ বাড়ার যে আশঙ্কা, তা খুব হাল্কাভাবে নেওয়ার কারণ নেই। যদিও মনীন্দ্র আগরওয়াল বলছেন, আতঙ্ক বা উদ্বেগ নয়, সতর্কতাই সবচেয়ে জরুরি। মাস্ক পরা, স্যানিটাইজারের ব্যবহার চালিয়ে যেতে হবে। সেই সঙ্গে টিকা নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
আইআইটি কানপুরের ওই অধ্যাপকের কথায়, ওমিক্রনে আক্রান্ত হলেও মারাত্মক কোনও উপসর্গ দেখা যাবে না। শরীরে বড় প্রভাবও ফেলতে পারবে না। তবে অন্যকে সংক্রমণ করার ঝুঁকি বেশি। এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্র কী পদক্ষেপ করে তার উপরেই অনেক কিছু নির্ভর করছে। বিধি মানার ব্যাপারে কোনও ঢিলেমি দেওয়া যাবে না।