
শেষ আপডেট: 22 April 2020 18:30
মাউন্ট সিনাইয়ের নেফ্রোলজিস্টরা বলছেন, করোনা পজিটিভ রোগীর কিডনি ডায়ালিসিস করতে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানেও ব্লাট ক্লট হয়ে রয়েছে। মাউন্ট সিনাইয়ের নিউরোসার্জন ডাক্তার জে মোক্কো বলেছেন, খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার এই ভাইরাস কী পরিমাণে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে গোটা শরীরে, যে জায়গায় জায়গায় রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে। হার্টেও রক্ত জমাট বেঁধে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা রোগী। ডাক্তার মোক্কো বলছেন, নিউ ইয়র্কের অনেক তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের উপসর্গ দেখা গেছে। বাইরে থেকে আলাদা কোনও লক্ষণ নেই, তবে রোগী করোনা পজিটিভ। পরে দেখা গেছে তিনিই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ডাক্তারের কথায়, করোনাভাইরাস শুধুমাত্র ফুসফুসকে সংক্রামিত করছে এমনটা নয়, বরং দেখা গেছে ফুসফুসের থেকেও শরীরের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে নিশানা বানাচ্ছে সার্স-কভ-২।
মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের রিপোর্ট বলছে, গত এক সপ্তাহে ৩২ জন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন যাঁদের মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছিল। এই রোগীরা প্রত্যেকেই করোনা পজিটিভ ছিলেন। এদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স চল্লিশ বছরের নীচে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই রোগীদের হার্টের কোনও সমস্যাই ছিল না, এমনকি শরীরে অন্য কোনও ক্রনিক রোগও ছিল না।
মাউন্ট সিনাইয়ের ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হুমান পুওর বলেছেন, মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা ১৪ জন রোগীকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে এদের প্রত্যেকেরই ফুসফুসে রক্ত ঘন হয়ে জমাট বেঁধেছিল।
মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট ডাক্তার ডেভিড রেইক বলেছেন, রোগীর এই ধরনের উপসর্গ দেখে চিকিৎসা পদ্ধতিতেও বদল আনা হচ্ছে। ভাইরাসের সংক্রমণে রক্ত যাতে জমাট বাঁধতে না পারে তার জন্য ওষুধ ও বিশেষরকম থেরাপি করা হচ্ছে।
ফিলাডেলফিয়ার টমাস জেফারসন ইউনিভার্সিটির ডাক্তার পাসকাল জেব্বার বলেছেন, ভাইরাসের সংক্রমণে রোগীর শরীরে এভাবে বদল আসে আগে দেখা যায়নি। এমন রোগ বা উপসর্গও দেখা যায়নি। চিকিৎসা পদ্ধতিতে আরও বদল আনা দরকার বলেই মনে করছেন তিনি।