কল্যাণের প্রশ্ন, “একই অপরাধের জন্য কি একাধিক শাস্তি প্রাপ্য?”

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 9 July 2025 18:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসির নতুন নিয়োগে (SSC Recruitment Case) ‘দাগি’দের সুযোগ না-দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) ও রাজ্য সরকার পৌঁছেছে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে (Calcutta High Court)। শুনানিতে এসএসসি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল বেঞ্চ।
বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চ সরাসরি প্রশ্ন তোলে— এসএসসি কেন ‘দাগি’ প্রার্থীদের পাশে দাঁড়াচ্ছে? আদৌ কি কমিশনের এমন কোনও অবস্থান নেওয়ার অধিকার রয়েছে? আর নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কমিশন কেমন করে প্রভাবিত হচ্ছে?
যার জবাবে আদালতেরসামনে দু’টি যুক্তি পেশ করেন এসএসসি-র আইনজীবী তথা তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ( Kalyan Banerjee)।
প্রথমত, তিনি জানান— কারা ‘দাগি’ (Tainted Candidate )হিসেবে চিহ্নিত, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যারা প্যানেল-বহির্ভূত, মেয়াদোত্তীর্ণ প্যানেল থেকে, অথবা সাদা খাতা জমা দিয়ে চাকরি পেয়েছেন, শুধু তারাই ‘দাগি’ বলে বিবেচিত। তার বাইরে বাকি কেউ কি এই তালিকায় পড়েন?— এই প্রশ্ন থেকেই সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, নতুন নিয়োগে কারা বসতে পারবেন আর কারা পারবেন না— এই বিষয়টি নির্দিষ্টভাবে আদালতের কাছ থেকে জানতে চায় তারা।
দ্বিতীয় যুক্তি হিসাবে কল্যাণবাবু বলেন, যাঁরা ‘দাগি’ তকমা পেয়েছেন, তাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, বেতন ফেরতের নির্দেশও রয়েছে। তা হলে তাঁদের পরীক্ষায় বসার অধিকারও খর্ব করা কি একধরনের দ্বৈত শাস্তি নয়? কল্যাণের প্রশ্ন, “একই অপরাধের জন্য কি একাধিক শাস্তি প্রাপ্য?”
তবে এই যুক্তি আগেও সিঙ্গল বেঞ্চে উত্থাপন করেছিলেন তিনি। তখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘‘ওঁরা যদি জালিয়াতি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পেয়ে থাকেন, তার ফল তো ভুগতেই হবে।’’
বুধবার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির সময়ে বিচারপতিরা জানতে চান, নতুন পরীক্ষায় বসার জন্য কত জন ‘দাগি’ আবেদন করেছেন? জবাবে এসএসসি জানায়, এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৮০ জন ‘দাগি’ পরীক্ষায় বসার জন্য আবেদন করেছেন, যা মোট আবেদনকারীর প্রায় ১০ শতাংশ।
এসএসসি-র এই অবস্থান ঘিরে ফের একবার বিতর্ক দানা বেঁধেছে। আদালতের কটাক্ষ, “একজন নিয়োগকারী সংস্থা কি নিজেই অযোগ্য প্রার্থীদের হয়ে সওয়াল করতে পারে?” এখন দেখার, ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় চূড়ান্ত রায় কী দেয়।