রাজেশ চক্রবর্তী, তাপস পুরকাইত সহ অন্যান্য সহকর্মীরাও জানিয়েছেন, যদি প্রাথমিক চিকিৎসা সময়মতো পাওয়া যেত, হয়তো বিশ্বজিৎবাবুর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 16 September 2025 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অফিস যাওয়ার তাড়ায় প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৩০ নাগাদ ত্রিবেণী থেকে লোকাল ট্রেনে হাওড়া স্টেশন এসে মেট্রো (Howrah Metro station) ‘ ধরে বিদ্যুৎ ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন রাজ্য সরকারের কর্মী বিশ্বজিৎ পাকরাশি (৫১)। কিন্তু বিদ্যুৎ ভবনের ঠিক আগেই, হাওড়া মেট্রো স্টেশনের লিফটের সামনে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। মাথা ঘুরে পড়ে যান প্ল্যাটফর্মেই।
চারপাশে ভিড়, হাঁটাচলা করছে হাজারো যাত্রী। কেউ কেউ এগিয়ে এলেও কার্যকর কোনও চিকিৎসার ব্যবস্থা ছিল না বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাঁর সহকর্মী সঞ্জয় চক্রবর্তী। তিনি জানিয়েছেন, “আমি চেঁচিয়ে সাহায্য চাইছিলাম, কিন্তু মেট্রো কর্মীরা প্রথমে কিছুই করেননি। অন্তত ১৫ মিনিট পরে একটা ঘরে নিয়ে গেলেও সেখানে অক্সিজেন মাস্ক ছিল না (oxygenmask)। শুধু সিলিন্ডার পড়ে ছিল।”
তিনি আরও জানান, অ্যাম্বুল্যান্সের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। বাধ্য হয়ে একটি প্রাইভেট গাড়ি ডেকে বিশ্বজিৎবাবুকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ততক্ষণে প্রায় ৪৫ মিনিট কেটে গিয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসক জানান, পথেই মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার পরেই উঠছে বড় প্রশ্ন — হাওড়া মেট্রো স্টেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় কেন নেই জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো? রাজেশ চক্রবর্তী, তাপস পুরকাইত সহ অন্যান্য সহকর্মীরাও জানিয়েছেন, যদি প্রাথমিক চিকিৎসা সময়মতো পাওয়া যেত, হয়তো বিশ্বজিৎবাবুর প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হতো।
যদিও মেট্রো কর্তৃপক্ষের দাবি, “অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি, প্রাথমিক চিকিৎসার পরে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
যদিও ঘটনার জেরে সামনে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন। মেট্রো স্টেশনে জরুরি পরিস্থিতির জন্য যেটুকু প্রস্তুতি থাকা উচিত, তা কি আদৌ আছে? নাকি প্রতিদিন লক্ষাধিক যাত্রী শুধু নিজের ভাগ্যের ওপরেই নির্ভর করছেন? বিশ্বজিৎবাবুর সহকর্মীদের কান্নায় মিশে রইল সেই প্রশ্ন — “অক্সিজেন ছিল, কিন্তু একটা মাস্কও যদি থাকত...!”