সূত্রের দাবি কবে কখন শান্তিনিকেতন থানায় কেষ্টবাবুকে হাজিরা দিতেই হবে সে বার্তা নিচুপট্টিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন দিদির দূত!
.jpeg.webp)
অনুব্রত মণ্ডল
শেষ আপডেট: 3 June 2025 08:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজনীতিতে অনেক সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে তা অনিবার্য ভাবে ঘটবেই এমনটা সব সময়ে বলা যায় না। কারণ, অষ্টপ্রহরের রাজনীতিতে শেষ মুহূর্তে এসে বহু সময়ে কৌশল বদলে যায়। তেমন কোনও বদল না ঘটলে শেষমেশ অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) ‘বিশ্রাম পর্বের’ ইতি ঘটতে চলেছে। শুধু তা নয়, সূত্রের দাবি কবে কখন শান্তিনিকেতন থানায় কেষ্টবাবুকে হাজিরা দিতেই হবে সে বার্তা নিচুপট্টিতে স্পষ্ট করে দিয়েছেন দিদির দূত! সোমবার রাতে তাই কিছুটা থমথম করছিল বোলপুরের ওই এলাকা। কারণ, এ তো মামুলি হাজিরা নয়, ‘কেষ্টদার ইজ্জতের প্রশ্ন!’
অনুব্রত মণ্ডল কবে কখন শান্তিনিকেতন থানায় (Shantiniketan PS) হাজির দেবেন সে খবর গোড়ায় পৌঁছনের আগে কিছুটা প্রাককথন জরুরি। বোলপুর থানার (Bolpur IC) আইসি লিটন হালদারকে ফোন করে অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal News) যে কদর্য ও নোংরা গালমন্দ করেছিলেন, তার অডিও টেপ ভাইরাল (Anubrata Mondal Viral) হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার রাতে। পরদিন শুক্রবার সকাল থেকে তা নিয়ে বাংলা জুড়ে হইচই পড়ে যায়। দুপুরে তৃণমূলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, অনুব্রত মণ্ডলকে চার ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। তৃণমূলের নির্দেশ ও তার পর অনুব্রতর ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রকারান্তরে স্পষ্ট হয়ে যায়, অডিও টেপে গলাটা কেষ্ট মণ্ডলেরই। নইলে ক্ষমা চাইতে বলা হবে কেন, আর ক্ষমাই বা চাইবেন কেন!
পাশাপাশি বীরভূমের পুলিশ সুপার আমনদীপ জানিয়ে দেন, বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারের (Liton Halder) অভিযোগের ভিত্তিতে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দণ্ডবিধির চারটি ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এবং শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে অনুব্রত মণ্ডলকে থানায় হাজিরা দিতে হবে। অনুব্রত শনিবার থানায় যাননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রবিবারও যাননি। উল্টে তাঁর ঘনিষ্ঠ এক নেতা থানা চত্বরে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, অনুব্রত নাকি ফোনই করেননি। ওই ভয়েস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টালিজেন্স (AI) দিয়ে তৈরি।
যা দেখে রবিবার সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty) বলেছিলেন, অনুব্রত হয়তো ভাবছেন, দুদিন ঘাপটি মেরে থাকি। দুদিন পর অন্য বিষয় এসে পড়বে। মিডিয়া তাঁকে ভুলে যাবে। তার পর আবার আগের মতই..।
কিন্তু দেখা গেল, রবিবার অমিত শাহ-র সভাও টিভি বা ডিজিটাল মাধ্যমের স্ক্রিন থেকে অনুব্রতকে সরাতে পারেনি। কারণ, কেষ্টকে নিয়ে বেশি আগ্রহ জনতার। সোমবারও সেই ধারা অব্যহত থেকেছে। যা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে শাসক দলকে। কারণ, ব্যাপারটা ৯৬ ঘণ্টা ধরে একটানা চলছে। এতে পুলিশের মর্যাদাহানি ঘটছে। তা ছাড়া অনেকেরই মনে হচ্ছে, পুলিশ কতটা অসহায়।
বীরভূমের জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, এর পরই সোমবার সন্ধে নাগাদ কলকাতা থেকে বার্তা পৌঁছেছে নিচুপট্টিতে। অনুব্রত মণ্ডলকে বলা হয়েছে, পারলে মঙ্গলবারই থানায় গিয়ে হাজিরা দিতে। আর ধানাইপানাই করা চলবে না। অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠরা অবশ্য এ নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। তাঁরা সংবাদমাধ্যমকে এখন কিছু না জানানোর শপথ নিয়েছেন বলে খবর। বরং তাঁরা গোঁসা করছেন যে, বীরভূমে তৃণমূলের মধ্যে থেকেই কেউ কেউ ভিতরের খবর বাইরে দিয়ে দিচ্ছেন। ঠিক যেভাবে দাদার অডিও টেপ চলে গেছে ‘বিজেপির হাতে’।
এমনিতে অনুব্রত মণ্ডল ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি। তিহাড় জেলে (Tihar Jail) যাওয়ার আগে পর্যন্ত হাতে ধারণের আংটি ছিল। তা ছাড়া নিষ্ঠার সঙ্গে কালীপুজো করতেন। কালী পুজোর দিন অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিমা ভারী সোনার গয়নায় সেজে উঠত। এখন মুশকিল হল, মঙ্গলবার তো থানায় হাজিরা দেওয়ার ব্যাপারে অনুব্রতকে খবর পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকা বলছে, অমৃতযোগ বা মাহেন্দ্রযোগ দূরস্থান মঙ্গলবার ‘শুভকর্ম—নাই’। ‘যাত্রা নাই’, ‘দিবা ঘ ১১|১৯ গতে যাত্রা মধ্যম, উত্তরে নিষেধ। দিবা ১১|৪৯ গতে পুনঃ যাত্রা নাই।’
তাহলে?
তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্বের তরফে বীরভূমের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হলেন ফিরহাদ হাকিম। অনেক দিন ধরে ববি হাকিম এই জেলা দেখভাল করেন। গরুপাচার মামলায় কেষ্ট মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পর ফিরহাদ হাকিমই বীরভূমের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাঁকে ‘খাঁচার বাঘ’ উপাধি দিয়েছিলেন। এহেন অনুব্রত মণ্ডল কবে কখন থানায় হাজিরা দেবেন, জানতে চাওয়া হলে সোমবার সন্ধেয় ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) দ্য ওয়ালকে বলেন, এটা ওঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার। কবে কখন অনুব্রত থানায় যাবেন তা তিনিই (অনুব্রতই) বলতে পারবেন, ফিরহাদ জানেন না।
তবে বীরভূম তৃণমূলের একাংশ এতক্ষণে জানে, শেষমেশ কৌশলের কোনও বদল না ঘটলে মঙ্গলবারই থানায় হাজিরা দিতে পারেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁরাও ঘড়ি দেখছেন, সেকেন্ডের কাঁটা এগোচ্ছে টিক টক টিক টক।