
শেষ আপডেট: 15 May 2019 18:30
সোনারপুর আরোহী ক্লাবের বিপ্লব বৈদ্য, এই ক্লাবেরই রুদ্রপ্রসাদ হালদার, হৃদয়পুরের বাসিন্দা এবং মাউন্টেন কোয়েস্ট ক্লাবের সদস্য রমেশ রায় ইছাপুরের শেখ সাহাবুদ্দিন ও হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশনের কুন্তল কাঁড়ার এপ্রিল মাসের চার তারিখে রওনা দিয়েছিলেন বাঙালি অভিযাত্রী দল হিসেবে। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পুর্বা, মিংমা, দাওয়া তেম্বা, দাওয়া সিরিং এবং দাওয়া নামের পাঁচ জন দক্ষ শেরপা।
মঙ্গলবার ভোরে খবর মিলেছিল, প্রায় সাত হাজার মিটার উচ্চতার ক্যাম্প-৩ থেকে সাড়ে সাত হাজার মিটার উচ্চতার ক্যাম্প ফোর তথা সামিট ক্যাম্পের পথে রওনা দিয়েছেন বাংলার পাঁচ অভিযাত্রী–- বিপ্লব বৈদ্য, রমেশ রায়, কুন্তল কাঁড়ার, রুদ্রপ্রসাদ হালদার এবং শেখ সাহাবুদ্দিন। নিরাপদে সামিট ক্যাম্পে পৌঁছে, কয়েক ঘন্টা বিশ্রাম নিয়ে বিকেল চারটে নাগাদই সামিটের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ শৃঙ্গ ছোঁয়ার চূড়ান্ত অভিযানে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা।
মঙ্গলবার বিকেলে শুরু করা ‘ফাইনাল অ্যাটেম্পট’-এর আগে পর্যন্ত পেরিয়ে আসা এতটা পথ মোটেই সহজ ছিল না তাঁদের কাছে। ১০ মে ক্যাম্প-২ তে পৌঁছোনোর পরে ঠিক ছিল, ১১ তারিখ বিশ্রাম নিয়ে ১২ তারিখ রবিবার তাঁরা ক্যাম্প-৩ পৌঁছে যাবেন। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তাঁরা সেদিন ক্যাম্প-২ তেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর পরে ১৩ মে অনেকটা লম্বা পথ পেরিয়ে তাঁরা ক্যাম্প-৩ পৌঁছেছিলেন। তার পরে ১৪ তারিখ ভোরে শুরু করেন ক্যাম্প ফোর অর্থাৎ সামিট ক্যাম্পের উদ্দেশে যাত্রা। বুধবার সকালে পৃথিবীর তৃতীয় উচ্চতম শৃঙ্গে ভারতের জাতীয় পতাকা ওড়ান বাংলার চার পর্বতারোহী।
‘পিক প্রোমোশন’ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, সামিটে পৌঁছনোর আগেই কুন্তলের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। অন্যদিকে, হাইপোথারমিয়া ও তুষারক্ষতে আক্রান্ত হন বিপ্লবও। তাঁদের সামিট ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করেন 'প্রজেক্ট পসিবল' টিম লিডার পর্বতারোহী নির্মল পুরজা এবং তাঁর শেরপা মিংমা ডেভিড এবং জেসমান তামাং।
"অধিক উচ্চতায় বাংলার অভিযাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। বিপ্লব সামিট করতে পারলেও, কুন্তল মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন," বলেছেন 'পিক প্রমোশন'-এর ম্যানেজার মাসাং শেরপা।
২০১৪ সালের ২০ মে কাঞ্চনজঙ্ঘা অভিযানে থেকে ফেরার পথেই নিখোঁজ হয়ে যান ছন্দা গায়েন। সেই ঘটনার পাঁচ বছর পরে ফের একই পথে বাঙালি অভিযাত্রীরা। চিন্তা আর উদ্বেগের প্রহর কাটছে না পরিবার ও আত্মীয়দের। ঘরের ছেলে কি ঘরে ফিরে আসবে? এখনও আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন আপনজনেরা।