দ্য ওয়াল ব্যুরো : তখন ২০১৮ সালের মাঝামাঝি। এক সাক্ষাৎকারে বিলিওনেয়ার শিল্পপতি ভবগুথু রঘুরাম শেট্টি বলেন, “আমি যদি কোনওদিন একটাও সমস্যায় না পড়ি, তাহলে মনে হয়, দিনটা ভাল গেল না। আমি সমস্যার মুখোমুখি হতে চাই। তার সমাধান করে আনন্দ পেতে চাই।”
রঘুরাম শেট্টি ছিলেন আবু ধাবির সবচেয়ে বড় হেলথকেয়ার কোম্পানির মালিক। কোম্পানির নাম ছিল এনএমসি হেলথ। তিনি যখন ওই সাক্ষাৎকার দেন, তখন তাঁর ব্যবসা বিপদে পড়ার কোনও সম্ভাবনাই ছিল না। ২০১৭ সালে তিনি বলেছিলেন, মহাভারত নিয়ে একটি ভারতীয় ছবি করবেন। তার বাজেট ছাড়িয়ে যাবে আগের সব ছবিকে। তিনি ব্যয় করবেন ১ হাজার কোটি টাকা।
রঘুরাম শেট্টির বাড়ি কর্নাটকে। সাতের দশকের শুরুতে পাড়ি দিয়েছিলেন পশ্চিম এশিয়ায়। তখন তাঁর পকেটে ছিল মাত্র আট ডলার। ২০১৮ সালে তার সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪২০ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রায় ৩২ হাজার কোটি টাকা। রঘুরাম শেট্টির ঘনিষ্ঠ ছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ মনসুর বিন জায়েদ অল নাহয়ান। তিনি বিখ্যাত ম্যাঞ্চেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের মালিক। রঘুরামের সঙ্গে জানাশোনা ছিল মাইক্রোসফটের কর্ণধার বিল গেটসের। রঘুরাম তাঁকে কথা দিয়েছিলেন, নিজের মোট সম্পদের অর্ধেক জনকল্যাণমূলক কাজে দান করবেন।
সমস্যার সূত্রপাত হল ২০১৯ সালের ৬ অগাস্ট। মাডি ওয়াটার নামে এক রিসার্চ ফার্ম জানাল, লন্ডনের শেয়ার বাজারে লিস্টেড একটি কোম্পানির হিসাবে গুরুতর গরমিল আছে। তারা তখনও কোনও সংস্থার নাম জানায়নি। তার আগেই এমএনসি হেলথের শেয়ারের দর পড়তে শুরু করল। অর্থাৎ, শেয়ার বাজারে অনেকেরই সন্দেহ হয়েছিল, রঘুরামের কোম্পানিতে কিছু গণ্ডগোল আছে।
২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর রঘুরামের কোম্পানির বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করল মাডি ওয়াটার্স। তাতে বলা হয়েছে, কোম্পানির হিসাবে অনেক কারচুপি করা হয়েছে। সংস্থাটি বিরাট অঙ্কের দেনায় ডুবে আছে। কোম্পানির বোর্ডের অজান্তেই ১০ কোটি ডলারের চেক ইস্যু করা হয়েছে। এরপর রঘুরাম কোম্পানির ডিরেক্টরের পদটি ছেড়ে দেন। গত ফেব্রুয়ারিতে লন্ডনের বাজারে এনএমসি-র শেয়ার বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যবসা শুরু করার ৪০ বছর পরে জীবনের সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়েছেন রঘুরাম। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, সমস্যার মুখোমুখি হতে ভালবাসেন। বাস্তবে এখন তিনি যে সমস্যায় পড়েছেন, তাতে তাঁর চার দশক ধরে গড়ে তোলা ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যেতে বসেছে।