দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিগ্রহকে ঘিরে থাকা বলয়ের নাকি মৃত্যু ঘটছে। ইতিমধ্যে বলয়ের অর্ধেকের আর অস্তিত্বই নেই। এমনই দাবি করেছে সৌরজগৎ ও গ্রহ সংক্রান্ত পত্রিকা ইকারাস। ম্যাগাজিনটিতে দাবি করা হয়েছে, ওই বলয় যে সব জিনিস দিয়ে তৈরি সেগুলি বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে শনিগ্রহের ভিতরেই। ফলে আস্তে আস্তে ক্ষয়ে যাচ্ছে বলয়।
শনিগ্রহের বিখ্যাত বলয়টির জন্য এই গ্রহটিকে দেখতে অন্য গ্রহের থেকে আলাদা। তবে এই রিং বা বলয় শনিগ্রহের জন্মের সময় থেকেই তাকে ঘিরে আছে, না কি পরে সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে মতান্তর আছে। অনেকে বলেন, লুপ্ত হয়ে যাওয়া ডাইনোসরেরা যদি টেলিস্কোপ দিয়ে সৌরমণ্ডল দেখত, তা হলে দেখত বলয় নেই। তার মানে শনির বলয় গোড়া থেকেই যে ছিল এমন নয়। শনির বলয় নিয়ে গবেষণায় যিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই জেমস ডোনোহিউ বলেন যে আমরা ভাগ্যবান যে বলয়টি আমরা দেখতে পাচ্ছি। অনেক বিজ্ঞানীই বলেন যে শনির বলয় তৈরি হয়েছে অনেক পরে। গ্রহটি তৈরি হওয়ার পর তা থেকে নানারকম ধ্বংসাবশেষ বেরিয়ে বলয় তৈরি হয়েছে। আবার অনেকে বলেন যে একাধিক ধুমকেতু, উল্কা, গ্রহাণু ও চাঁদ শনির কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে ভেঙে যায়। ভাঙা টুকরোগুলিই জুড়ে জুড়ে তৈরি হয় বলয় বা রিং।
সূর্য থেকে দূরত্বের নিরিখে ষষ্ঠ গ্রহ হলো শনি। শনিকে তার বলয় ছাড়া ভাবাই যায় না। টেলিস্কোপে দেখলে মনে হয় শনির বলয় কোনও কঠিন জিনিস দিয়ে তৈরি। কিন্তু ভয়েজার ও ক্যাসিনি মহাকাশযান থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে শনির বলয় নানা আকারের ও সাইজের টুকরো টুকরো সৌরকণা দিয়ে তৈরি। শনির নিজের মাধ্যাকর্ষণের জোরে গ্রহটিকে বলয়ের মতো ঘিরে থাকে ওই সব নানারকম টুকরো। শনির মাধ্যাকর্ষণ ওই সৌরকণাগুলিকে নিজের দিকে টেনে রাখে। আর কক্ষপথের তীব্র গতিবেগ তাদের মহাশূন্যে ভাসিয়ে রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের আলো বা অন্য মহাজাগতিক কারণে শনির বলয়ের সৌরকণাগুলিতে বিদ্যুৎ তৈরি হয় এবং সেগুলি শনির চুম্বক ক্ষেত্রর দিকে ধাবিত হয়। ফলে বলয় থেকে কণা ঝরে পড়ে শনিগ্রহের ভিতরে। ঝরে পড়ার সময় ওই সব কণা হাইড্রোজেন ও জলীয় কণায় পরিণত হয়। ডোনোহিউ ও তাঁর সহকর্মীরা বিশাল এক টেলিস্কোপ দিয়ে এই মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন। শনির চুম্বকক্ষেত্র এত শক্তিশালী যে তা প্রতি ৩০ মিনিটে অলিম্পিক সাইজের সুইমিং পুলের মতো পরিমাণে সৌরকণাকে নিজের ভিতরে টেনে নিতে পারে। সবমিলিয়ে গবেষকদের দাবি, দশ কোটি বছরের মধ্যে অস্তিত্বহীন হয়ে যাবে শনির বলয়। সময়টা শুনে চোখ কপালে উঠলেও মহাবিশ্বে, মহাকাশে মহাকালের মাঝে দশ কোটি বছর কিন্তু এমন কিছু নয়!