৩০০-র বেশি ভোটার থাকা আবাসনের বুথ সংক্রান্ত রিপোর্ট বুধবারের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। ব্যর্থ হলে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 30 December 2025 21:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যে সমস্ত আবাসনে ৩০০ বা ৫০০-র বেশি ভোটার, এবং কোন জেলায় কত, তার রিপোর্ট বুধবারের মধ্যেই জমা দিতে হবে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO)। মঙ্গলবার বৈঠকে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ ভারতী। নচেৎ সংশ্লিষ্ট ডিএম/ডিইও-দের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ডেপুটি কমিশনার।
আবাসনে (Highrise) ভোটকেন্দ্র করা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক ও অভিযোগের আবহে এদিন সরাসরি জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (DEO) নিয়ে বৈঠক ডেকেছিল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতর।
এই বৈঠকে হাজির থাকতে বলা হয় কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং হুগলি - এই আট জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা সেই মতোই ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র নিয়ে আসেন এদিন।
সূত্রের খবর, এদিনের হাইরাইজ (কমপ্লেক্স এবং আবাসন) সংক্রান্ত মিটিংয়ে আবাসনে বুথ করার বিষয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার উপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্ঞানেশ ভারতী। এ ব্যাপারে ওই জেলা থেকে কোনও রকম সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিরক্তও প্রকাশ করেছেন তিনি।
কমিশন আগেই জানিয়েছিল যেসব এলাকায় ২৫০ টার বেশি বাড়ি রয়েছে বা যেসব আবাসনে বা বহুতলে অথবা বস্তি এলাকায় ৫০০-র বেশি ভোটার রয়েছে, সেইসব এলাকায় সমীক্ষা করে রিপোর্ট দিতে হবে। তবে কলকাতা সহ শহরতলী বা বড় বড় শহরের ক্ষেত্রে কোনও আবাসনে যদি ৩০০-র বেশি ভোটার থাকে তাহলে সেখানেও এমন ভোটকেন্দ্র করার বিষয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর।
প্রসঙ্গত, বেসরকারি আবাসন কমপ্লেক্সের (Private Complex) ভিতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (ECI Ganesh Kumar) চিঠিও দেন তিনি।
মমতার যুক্তি - ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি ভবনে স্থাপিত হওয়াই নিয়ম। এতে জনসাধারণের সমান প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়। বেসরকারি প্রাঙ্গণ ব্যবহারে প্রশ্ন উঠতে পারে নিরপেক্ষতার। ‘সুবিধাভোগী’ বনাম ‘অসুবিধাভোগী’ - এই বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তারপরও ইসিআই (ECI) বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে।