দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে করোনা-সংক্রমণ রোজই বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যুও। এ তথ্য সম্পূর্ণ ঠিক হলেও, একইসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখে পড়ার মতো বিষয় হল, সংক্রমণের বৃদ্ধির যে হার, তা যত বেশি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, তা কিন্তু নয়। বরং অন্যান্য দেশের তুলনায় খানিক ধীরেই বাড়ছে সংক্রমণ। এমনকি কখনও কখনও তা কমেওছে।
যেমন, ৬ তারিখেই যেখানে দেশে সংক্রমণ বেড়েছিল ৭০৪ জনের, সেখানে আজ, ৯ তারিখ এই সংখ্যাটি ৫৯১। আবার অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এ পর্যন্ত দেশে মৃতের সংখ্যা ১৬৯। যা অবশ্যই উদ্বেগজনক হলেও, সুস্থও হয়েছেন এ পর্যন্ত ৪৭৮ জন, যা মৃতের সংখ্যার প্রায় তিন গুণ।
চিনের পরে অন্য যে দেশগুলিতে করোনাভাইরাস থাবা বসিয়েছে, সব ক'টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে হু হু করে। মৃত্যুর হারও সেভাবেই বেড়েছে। ইতালি থেকে একসময়ে খবর আসতে শুরু করেছিল, প্রতিদিন ৪০০-৫০০ করে মানুষ মারা যাওয়ার। এক সময়ে সেটাই বেড়ে হাজার পেরিয়ে যায়। সাম্প্রতিক অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ আমেরিকার ক্ষেত্রেও দেখা যায় একই চিত্র। সে দেশে প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়ার পরে মাস খানেকের মধ্যে সংখ্যাটা কয়েক লক্ষে পৌঁছে যায়।
সেখানে আশার কথা, ভারতে প্রথম করোনা ধরা পড়ার পরে বেশ খানিকটা সময় পেরোলেও, সংক্রমণের সংখ্যা পেরিয়েছে পাঁচ হাজার। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। একথা বলছে আইসিএমআর-ও। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠক করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল। সেখানেই উপস্থিতি ছিলেন ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ বা আইসিএমআর-এর এক কর্তাও। তিনি বলেন, গতকাল পর্যন্ত ভারতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫৭৩৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অর্থাৎ করোনা সংক্রমণের হার ৩ থেকে ৫ শতাংশ। এই হার গত দু’মাস ধরে প্রায় একই রয়েছে। এতে বিশেষ কোনও পরির্তন হয়নি।
চিন, ইতালি, স্পেন, আমেরিকার মতো দেশগুলির করোনা সংক্রমণের হার বিচার করলে দেখা যাবে, একটা সময়ের পর থেকে তা গুণোত্তর প্রগ্রতিতে বেড়েছে। অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণ হয়েছে। কারণ গোষ্ঠী সংক্রমণ না হলে এভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ে না। আর একবার আক্রান্তের সংখ্যা এভাবে বাড়তে শুরু করলে তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। এমনটাই দেখা গিয়েছে এই সমস্ত দেশে। ভারত সেখানে ভাল অবস্থানে রয়েছে।
এই তথ্যের ভিত্তিতে অনেকেই বলছেন, সারা দেশজুড়ে লকডাউন করার যে সিদ্ধান্ত, তা এক্ষেত্রে অনেকটাই কার্যকরী। যদিও দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রায়ই খবর এসেছে লকডাউন অমান্য করার, তার পরেও এ লকডাউন যতটা সফল হয়েছে, তারই প্রতিফলন দেখা গেছে সংক্রমণের সংখ্যায়। আক্রান্তের হার বেড়েছে ধীর গতিতে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই লকডাউন যদি আরও কিছুদিন পালন করা যায় গুরুত্ব-সহকারে, তাহলে সংক্রমণের হার ধীরে ধীরে আরও কমানো সম্ভব হবে।
শুধু তাই নয়। পাশাপাশি যেভাবে গবেষণা এগোচ্ছে দেশে, তাতেও আশার আলো দেখছেন অনেকে। আজই আইসিএমআর-এর তরফে জানানো হয়েছে, কোভিড ১৯ রুখতে প্লাজমা থেরাপি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে গবেষণা চলছে। আংশিক সবুজ সঙ্কেত মিলেছে আরও বেশ কিছু ড্রাগের ক্ষেত্রেও। ফলে জোরদার লড়াই করোনাকে হারিয়ে দিতে পারবে বলেই মনে করছেন অনেকে।
কিন্তু তাই বলে কি স্বস্তি পাওয়ার কোনও কারণ আছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, না। তা নেই। কারণ সবকিছুর পরেও সংশয় থেকে গেছে একটা জায়গায়। হু-এর গাইডলাইন বলছে, করোনাকে জব্দ করার আসল চাবিকাঠি হচ্ছে FITT. অর্থাৎ, ফাইন্ড, আইসোলেট, টেস্ট, ট্রিট। অর্থাৎ সন্দেহভাজনদের খুঁজে বার করে, আলাদা করে, টেস্ট করে চিকিৎসা করা।
এই চারটি ধাপের মধ্যেও আবার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, টেস্ট। যত বেশি সংখ্যায় টেস্ট হবে, তত বেশি ও দ্রুত ধরা পড়বে সংক্রমণ। সেখানেই ভারতের পরিস্থিতি খানিকটা পিছিয়ে আছে বলে মনে করছেন অনেকেই। সে কারণেই হয়তো অন্য দেশগুলি থেকে যত সংক্রমণের খবর আসছে, ভারতে তা নয়।