রবিবার বিকেলে বনদফতর উদ্যোগে কচ্ছপ (Turtle) দু’টিকে উদ্ধার করে বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 27 January 2026 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পথ ভুলে গভীর সমুদ্র ছেড়ে মিষ্টি জলের নদীতে ঢুকে পড়েছিল দু’টি বিরল প্রজাতির অলিভ রিডলে কচ্ছপ (olive ridley turtle)। কিন্তু স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও বনদফতরের দ্রুত তৎপরতায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের ঠিকানায় ফিরতে পারল তারা। রবিবার বিকেলে বনদফতর উদ্যোগে কচ্ছপ (Turtle) দু’টিকে উদ্ধার করে বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি হাওড়ার আমতা ২ নম্বর ব্লকের। মঙ্গলবার ও শুক্রবার ভাটোরা এবং কাশমলি এলাকার আমতার নদীতে আচমকাই দেখা যায় বিশাল আকারের দু’টি কচ্ছপ (Viral Turtle)। নদীর মিষ্টি জলে এমন দৃশ্য দেখে স্বাভাবিক ভাবেই কৌতূহল ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। খবর জানাজানি হতেই দ্রুত সক্রিয় হন স্থানীয় পরিবেশকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
সূত্রের খবর, পরিবেশকর্মী সৌরভ মণ্ডল এবং একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাই প্রথম কচ্ছপ দু’টিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় বনদফতরে। এরপর বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কচ্ছপ দু’টিকে গড়চুমুক প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
বনদফতর (Forest Department) সূত্রে জানা গিয়েছে, অলিভ রিডলে কচ্ছপ সাধারণত গভীর সমুদ্রের নোনা জলে থাকতে অভ্যস্ত। দীর্ঘ দিন মিষ্টি জলে থাকার ফলে কচ্ছপ দু’টির শরীরে কিছু সমস্যা দেখা দিতে শুরু করেছিল। সেই কারণে সরাসরি সমুদ্রে ছেড়ে না দিয়ে প্রথমে চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাওড়া বন বিভাগের আধিকারিক সুজিত কুমার দাস ও রাজেশ মুখোপাধ্যায়ের তৎপরতায় দ্রুত পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর একটি কচ্ছপকে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি রেঞ্জের একটি নির্জন সমুদ্রতটে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্য কচ্ছপটিকেও একই দিনে বঙ্গোপসাগরের নোনা জলে মুক্ত করা হয়।
বন্য দফতরের এক কর্মী জানান, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস অলিভ রিডলে কচ্ছপদের ডিম পাড়ার সময়। এই সময়ে তারা প্রায়ই উপকূলবর্তী এলাকায় চলে আসে। তবে নদীর মিষ্টি জলে ঢুকে পড়া তাদের স্বাভাবিক আচরণ নয়। তাঁর মতে, হয়তো দিকভ্রান্ত হয়ে অথবা জলপথের পরিবর্তনের কারণে কচ্ছপ দু’টি আমতার নদীতে চলে এসেছিল।
স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং বন দফতরের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে এই বিরল প্রজাতির প্রাণীদের নিরাপদে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। পরিবেশপ্রেমীদের মতে, এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—সচেতনতা ও তৎপরতা থাকলে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির সহাবস্থান সম্ভব।