মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
.jpeg.webp)
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 27 October 2025 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় এসআইআর-এর (SIR) কাজ প্রায় শুরু হয়ে গেল। সোমবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (SIR West Bengal) জানিয়ে দিল আজ রাত থেকেই বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে রাতেই ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেবে কমিশন (SIR West Bengal News Today)।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। কমিশন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে ৭ ফেব্রুয়ারি। তখনই বোঝা যাবে নাম থাকল না কাটা গেল।
কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, গুজরাত, কেরল, লাক্ষাদ্বীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান নিকোবর, এই ১২ রাজ্যে ৫১ কোটি ভোটারের তালিকার এসআইআর হবে। যে সব রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করবেন কর্মীরা।
কমিশন জানিয়েছে, ২০০৩ সালের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের আর কোনও কাগজ দিতে হবে না। কারও নিজের নাম যদি নাও থাকে, বাবা-মায়ের নাম থাকলে আর নতুন করে কাগজ দিতে হবে না। কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে এই ‘ম্যাচিং’ ভোটারেরা নিজেরাই করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
জাতীয় নির্বাচনের কথায়, ভোটারদের ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হতে হবে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় থাকতে হবে এবং কোনও আইনে ভোট দেওয়ার অধিকার বাতিল হলে চলবে না।
তাছাড়া, যে ভোটারদের পড়তে বা লিখতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সাহায্য করবেন বিএলওরা। ভোটদাতা যদি বাড়িতে না থাকেন, তাহলে তাঁর বাড়িতে আবার যেতে হবে বিএলও-দের। এক জন ভোটদাতার বাড়িতে তিন তিন বার যেতে হবে এক জন বিএলও-কে।
প্রতি বছরই যেমন নিয়ম মেনে ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজ করে নির্বাচন কমিশন, তেমনই এবারও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু এবার আর তা রুটিন সংশোধন নয়— কমিশন নিজেই মনে করছে, দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ায় অনেক ত্রুটি রয়ে গিয়েছে। ফলে শুরু হচ্ছে ‘স্পেশ্যাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা সংক্ষেপে এসআইআর, যেখানে গোটা ভোটার তালিকা নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে শেষবার এই ধরনের বিশেষ রিভিশন বা আমূল সংশোধন হয়েছিল ২০০২ সালে। অর্থাৎ, প্রায় ২৩ বছর পর ফের সেই পথে হাঁটছে কমিশন। গত এক দশক ধরে গোটা দেশেই এই ধরনের রিভিশন আর হয়নি।