এই পরীক্ষায় বসেছিলেন ২ লক্ষ ৭২ হাজার জন। দুর্গাপুজোর আগে ফল প্রকাশ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাকরিপ্রার্থীদের মুখে হাসি ফুটেছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2025 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার প্রকাশিত টেট ২০২৩-এর ফল (TET 2023 Result)। এদিনই সন্ধে ৬টা থেকে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (Website) দেখা যাবে ফলাফল। এই পরীক্ষায় বসেছিলেন ২ লক্ষের বেশি জন। আর উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ হাজারের কিছু বেশি জন পরীক্ষার্থী। দুর্গাপুজোর আগে ফল প্রকাশ হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই চাকরিপ্রার্থীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের ওয়েবসাইটেই এই ফল দেখতে পাওয়া যাবে। জানা গেছে, ২০২৩ সালে টেট পরীক্ষা (TET Exam 2023) দিয়েছিলেন ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪৭ জন এবং তাতে পাশ করেছেন ৬ হাজার ৭৫৪ জন। প্রথম দশে (First 10) রয়েছেন ৬৪ জন পরীক্ষার্থী। wbbpe.gov.in এই ওয়েবসাইটে দেখা যাবে ফলাফল। তথ্য অনুযায়ী, ৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হলেন প্রাথমিকের টেটে।
প্রাথমিকের টেটের চূড়ান্ত উত্তরপত্রও (Answer Sheet) প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। ফলপ্রকাশের আগে চূড়ান্ত উত্তরপত্র প্রকাশ করা হয়। সন্ধেতেই ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে পর্ষদ। তাই ফলাফল ঘোষণার আগে উত্তরপত্র পর্ষদের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হল। প্রাথমিকের টেটে কোন উত্তর সঠিক তার বিস্তারিত এই চূড়ান্ত উত্তরপত্রে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত এই প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় প্রায় তিন লক্ষ চাকরিপ্রার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ১৪৭ জন। ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্বের প্রধান কারণ ছিল ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনি জটিলতা। সেই জটিলতা সমাধান হওয়ায় আজ অবশেষে ফলাফল প্রকাশিত হল।
পর্ষদের তরফে জানান হয়েছে, অর্থ দফতরের অনুমোদন মেলায় শীঘ্রই জারি করা হবে প্রাথমিকে ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদের বিজ্ঞপ্তি। ২০২২-২৩ সালে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা, যাঁদের বয়সসীমা এখনও রয়েছে, তাঁরাও আবেদন করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
যদিও এই ফল প্রকাশের পথে ছিল নানা জটিলতা। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল আগেই জানিয়েছিলেন, ২০১৭ ও ২০২২ সালের টেট সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি না হলে ২০২৩ সালের ফলপ্রকাশ সম্ভব নয়। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ ছিল, ২০১৭ সালের টেটে ২৩টি প্রশ্ন এবং ২০২২ সালের টেটে ২৪টি প্রশ্ন ভুল ছিল। তা নিয়ে আদালতে মামলা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেয় আদালতে।
২০২৩ সালের প্রশ্ন নিয়েও মামলা হয়। সেই কারণেই পর্ষদ আইনি পরামর্শ নেয়। মামলা ও জটিলতার কারণে ২০২৪ সালের টেট পরীক্ষাও বাতিল হয়ে যায়। ফলে একাধিক ব্যাচের চাকরিপ্রার্থীরা হতাশায় ভুগছিলেন।
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ফল প্রকাশ হওয়ায় এবার আশার আলো দেখছেন তাঁরা। চাকরিপ্রার্থীদের একটাই দাবি, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হোক।