দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী বছর জানুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই টিকাকরণ শুরু হতে পারে তেলঙ্গানায়। সরকারি তরফে এমনটাই জানানো হয়েছে। প্রথম ধাপে ৮০ লাখকে টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হবে।
তেলঙ্গানা পাবলিক হেলথ ডিরেক্টর জি শ্রীনিবাস রাও বলেছেন, আর বেশি দেরি করতে চায় না সরকার। তেলঙ্গানায় এক মাস ধরেই সংক্রমণের হার বাড়ছে। টিকাকরণ তাই খুবই জরুরি। আগামী বছরের মাঝামাঝি থেকেই টিকা দেওয়ার গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। আট থেকে দশ দিনের মাথায় প্রথম ডোজ দিয়ে দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে তার পর থেকে চার সপ্তাহ ধরে। টিকা সংরক্ষণের জন্য কোল্ড চেনের প্রস্তুতিও চলছে রাজ্যজুড়ে।
দেশের তৈরি টিকাগুলির মধ্যে অনুমতির অপেক্ষায় আছে ভারত বায়োটেক ও সেরাম ইনস্টিটিউট। তবে এই দুই সংস্থারই জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেওয়ার প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা। সেফটি ট্রায়ালের আরও বেশি তথ্য জমা করতে বলা হয়েছে। শ্রীনিবাস বলছেন, ভারতীয়দের শরীরে এই দুই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির টিকাই যথাযথ হবে। টিকাকরণ শুরু হলে ভারত বায়োটেক ও সেরামের টিকার উপরেই ভরসা করা হবে সবচেয়ে আগে।
রাজ্যের কোভিড ওয়ার রুমকেই টিকাকারণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। আট থেকে দশ দিনের মধ্যেই ৮০ লাখকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। টিকার ১ কোটি ৬০ লাখ ডোজের জন্য কোল্ড চেন তৈরি করা হচ্ছে। টিকার অগ্রাধিকার পাবেন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়, টেকনিশিয়ান ও ডাক্তারি পড়ুয়ারা।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আগে টিকা দেওয়া হবে। পরের ধাপে টিকা পাবেন পুলিশ, প্রশাসন, মিউনিসিপ্যালিটির কর্মীরা। তৃতীয় ধাপে ৫০ বছরের বেশি বয়সীরা, চতুর্থ ধাপে কোমবির্ডিটির রোগীরা এবং ৫০ বছরের কমবয়সীরা যাদের শরীরে ক্রনিক রোগ রয়েছে অথবা যাদের পেশার জন্য বেশি মেলামেশা করার প্রয়োজন হয়। কাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, কী পরিমাণ ডোজ বিতরণ করা হচ্ছে এবং টিকা সংরক্ষণের কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তার রিপোর্ট রাখতে অনলাইন ট্রেনিং মডিউল তৈরি হচ্ছে। ‘ইলেকট্রনিক ভ্যাকসিন ইনটেলিজেন্স নেটওয়ার্ক’ নামে এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টিকার বিতরণ ও সংরক্ষণের সব তথ্য রেকর্ড করা থাকবে।