দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে শোনা গিয়েছিল, ভারতে অনইলাইন ব্যবসায় রিলায়েন্সের কর্ণধার মুকেশ অম্বানীর প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে চায় টাটা। বুধবার জানা গেল, আলিবাবা গ্রুপ হোল্ডিং পরিচালিত বিগবাস্কেট কেনার জন্য টাটা কথাবার্তা চালাচ্ছে। ওই সংস্থার ৮০ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ার কিনতে পারে টাটা গ্রুপ। সেজন্য তাদের দিতে হবে ১৬০ কোটি ডলার।
ইনোভেটিভ রিটেল কনসেপ্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামক সংস্থাটি বাজারে বিগবাস্কেট ডট কম নামে পরিচিত। একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে কিছুদিন আগে লেখা হয়েছিল, ওই সংস্থার শেয়ার কিনতে টাটা গ্রুপ খরচ করবে ১৩০ কোটি ডলার। টাটা বা বিগবাস্কেট, কোনও সংস্থাই এবিষয়ে মুখ খুলতে চায়নি।
জাগুয়ার ল্যান্ড রোভার থেকে টেটলি চা, নানা ধরনের পণ্যের ব্যবসা করে টাটা গ্রুপ। এবার অনলাইনে মুদির দোকান খোলার জন্য তারা বিগবাস্কেটের শেয়ার কিনতে চাইছে। করোনা অতিমহামারীর সময় অনলাইনে মুদির দোকানের কেনাকাটা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ভারতে ১ হাজার কোটি ডলারের খুচরো বাজারে যত পণ্য বিক্রি হয়, তার বড় অংশ জুড়ে আছে মুদির দোকানের জিনিসপত্র। আগামী দিনে ওই বাজার আরও বাড়বে।
গত অক্টোবর মাসে ব্লুমবার্গ নিউজ জানিয়েছিল, টাটা সনস ইন্টারনেট ব্যবসা শুরু করার জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজছে। টাটা সনস প্রাইভেট লিমিটেডের এখন মোট মূল্য ১১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ আট লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। জানা গিয়েছে, ১৫২ বছরের ঐতিহ্যশালী এই প্রতিষ্ঠান একটি ‘সুপার অ্যাপ’ বানাতে চলেছে। যে জন্য বহুজাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির সঙ্গে তারা কথা বলছে। এর মধ্যে ওয়ালমার্ট ইনকর্পোরেটেডের সঙ্গে তাদের কথাবার্তা কিছুদূর এগিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ২৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে পারে ওয়ালমার্ট।
‘সুপার অ্যাপ’ হল এমনই একটি অ্যাপ্লিকেশন যার মাধ্যমে বলতে পারেন গোটা দুনিয়া চলে আসবে মুঠোয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে আগামী দিনে সমস্ত ই-কমার্সের চাহিদা মেটাতে পারবে গ্রাহক। যেমন, জামা কাপড় কিনতে পারবে, লাইফস্টাইল ও ইলেকট্রনিক্সের সামগ্রী কিনতে পারবে। আবার মুদি খানার জিনিসপত্র কেনা, রেডি টু ইট খাবার অর্ডার দেওয়া, বিমা ও অন্যান্য আর্থিক পরিষেবারও সুযোগ নেওয়া যাবে। সেই সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবা, ট্রাভেল বুকিংও করা যাবে।
সুপার অ্যাপের লক্ষে মুকেশ অম্বানীর সংস্থা অবশ্য লকডাউনের মধ্যেই লম্বা লম্বা পা ফেলে এগিয়েছে। রিলায়েন্স তাদের ডিজিটাল ব্যবসায় ইতিমধ্যে ২ হাজার কোটি ডলার বা প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগ আনতে সফল হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের তালিকায় রয়েছে ফেসবুক ইনকর্পোরেটেড, আলফাবেট ইনকর্পোরেটেড এবং সিলভার লেক পার্টনারস। ইদানীং খুচরো ব্যবসার জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারী খুঁজছেন মুকেশ। সেক্ষেত্রে সম্ভবত বিনিয়োগ করতে চলেছে অ্যামাজন ডট কম।
ইন্টারনেটের ব্যবসায় এখনও পর্যন্ত টাটার চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে আছেন অম্বানী। ৬৩ বছর বয়সী মুকেশ অম্বানীর ফোর জিও টেলিকমিউনিকেশনস নেটওয়ার্কের গ্রাহক সংখ্যা ইতিমধ্যে ছুঁয়েছে ৪০ কোটি। দেশের সবচেয়ে বড় রিটেল চেনের মালিকও হলেন মুকেশ।