হুগলির তারকেশ্বরে নিখোঁজ চার বছরের শিশুকন্যার দেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, ভোরে ঘুমন্ত অবস্থায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ, এলাকায় বিক্ষোভ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 9 November 2025 08:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হুগলির তারকেশ্বরে চার বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে উত্তাল এলাকা। শনিবার ভোরে তারকেশ্বর স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় নেওয়া একটি পরিবারের শিশু কন্যাকে ঘুমের মধ্যে থেকে তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনভর খোঁজাখুঁজির পর দুপুর নাগাদ তাকে আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় একটি ড্রেন থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটি ঠাকুমার পাশে মশারির মধ্যে শুয়েছিল। দুষ্কৃতী মশারি কেটে তাকে তুলে নিয়ে যায়। ভোর থেকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা হন্যে হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। পরে তারকেশ্বর স্টেশন সংলগ্ন একটি ড্রেন থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটি উদ্ধার হওয়ার পর প্রথমে তাকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হলেও, সন্ধ্যার সময় পুনরায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় জানিয়েছেন, শিশুটিকে বিশিষ্ট চিকিৎসকের সাহায্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
হুগলি জেলা গ্রামীণ পুলিশ সূত্রে খবর, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর পকসো (POCSO) আইনে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক দীপ্তিময় দত্ত জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি নজরে রাখছেন।
এই ঘটনার খবর পেয়েই বিজেপির নেতা-কর্মীরা হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং পুলিশের বিরুদ্ধে ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান। পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তর্কাতর্কিও হয়। পরে বিজেপি কর্মীরা তারকেশ্বর থানার সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
বিজেপি আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সহ-সভাপতি গণেশ চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসন এই যৌন নির্যাতনের ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে না এবং তৃণমূল ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় এই ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে ঘটনার নিন্দা করেন। একইসঙ্গে তিনি বিজেপির সমালোচনা করে বলেন, "বিজেপির চরিত্র রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আচরণ করা ও গায়ে কালি লাগানোর। অধিকাংশ মিথ্যা কেস নিয়ে বিজেপি হইহই করে। এবার দেখার বিজেপি রেল অফিস ঘেরাও করে কি না।"