
শেষ আপডেট: 25 March 2024 09:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেওয়াল লিখন স্পষ্টই ছিল। কারণ, সেই শর্তেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। রবিবার রাতে আনুষ্ঠানিক ভাবে তা ঘোষণাও হয়ে গেল। উত্তর কলকাতা আসনে বিজেপির প্রার্থী হলেন বরাহনগরের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়।
তৎপর্যপূর্ণ ভাবেই কলকাতা উত্তর আসনে তিনটি বড় দলের প্রার্থীদের মধ্যে তাপস রায়ই হলেন কনিষ্ঠতম। তৃণমূলের বর্তমান সাংসদ ও প্রার্থী সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস প্রার্থী প্রদীপ ভট্টাচার্য দুজনেই তাপসের তুলনায় বয়সে অনেকটাই বড়। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বয়স ৭৫। তাপস যদিও দাবি করেন ওঁর আসল বয়স আরও বেশি। আর প্রদীপ ভট্টাচার্যর বয়সও প্রায় আশি ছুঁই ছুঁই। তাপস রায়ের বয়স ৬৭।
এবার লোকসভা ভোটের আগে বয়স বিতর্ক মাথা তুলেছিল তৃণমূলে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত ছিল যাঁদের বয়স ৭০ পেরিয়ে গিয়েছে তাঁদের আর লোকসভার প্রার্থী করা ঠিক হবে না। কারণ, স্বাভাবিক কারণেই যাঁদের বয়স কম তাঁদের কার্যক্ষমতা বেশি। লোকসভার সাংসদ হলেন সরাসরি জনগণের প্রতিনিধি। তাই সাংসদ এলাকায় ঘোরাঘুরি করে কাজ করার ক্ষমতা থাকলে ভাল। অভিষেকের এই ফর্মুলার পক্ষে সবচেয়ে সরব ছিলেন উত্তর কলকাতার নেতা ও তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সুদীপ-সৌগতর নাম মুখে না আনলেও কুণাল খোঁচা দিয়ে বলেছিলেন, কেউ কেউ আছেন যাঁরা মনে করেন, সাংসদ হওয়া তাঁর জন্মগত অধিকার। দেহত্যাগ না করলে পদত্যাগ নয়।
মূলত সুদীপের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে তাপস রায় দল ছেড়েছেন। লোকসভা ভোটের অনেক আগে থেকে এই টানাপোড়েন শুরু। ২১ জুলাইয়ের সভার জন্য শিবির তৈরি হয়েছিল বিধাননগরে। সেখানে এক আড্ডায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাপস তখনই বলেছিলেন, সুদীপ নিজের এলাকাতেও ঘোরে না। উত্তর কলকাতার সাংসদের কোনও অ্যাক্টিভিটি নেই। দলের কাজে তাঁকে পাওয়া যায় না। এমনকি পঞ্চায়েত ভোটের সময়ে মাত্র একদিন প্রচারে বেরিয়েছিলেন সুদীপ। কোনও জেলায় না গিয়ে শিয়ালদহে কোলে মার্কেটে গিয়ে সভা করে এসেছিলেন।
তাপস রায় অবশ্য নিয়মিত তাঁর নির্বাচন কেন্দ্র বরাহনগরে যেতেন। বিধানসভা থাকলে সেখান থেকে সোজা বেরিয়ে যেতেন বরাহনগরের উদ্দেশে। রবিবার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর তাপস রায় দ্য ওয়ালকে বলেন, “সুদীপ গত পাঁচ বছরে উত্তর কলকাতার কোথায় কোথায় গেছে, কেউ বলতে পারবে? কালীপুজোর ফিতে কাটা ছাড়া কেউ আপদে বিপদে ওঁকে পেয়েছে?”
অনেকের মতে, বিজেপি তাপস রায়কে উত্তর কলকাতায় প্রার্থী করায় অনেক দিন পর কঠিন লড়াইয়ের মুখে সুদীপ। গত তিন লোকসভা ভোটে উত্তর কলকাতায় জিততে তেমন বেগ পেতে হয়নি সুদীপকে। একে বামেদের ভোট ক্ষয়িষ্ণু। তার উপর বিজেপির কোনও সাংগঠনিক তাকত ছিল না উত্তরে।
কিন্তু তাপস রায় প্রায় পাঁচ দশক ধরে উত্তর কলকাতাতেই রাজনীতি করছেন। পুরসভার কাউন্সিলর হয়েছেন। বিদ্যাসাগর ও বড় বাজার বিধানসভা থেকে বিধায়ক ছিলেন। উত্তর কলকাতা তাঁর হাতের তালুর মতই চেনা। তা ছাড়া সজল ঘোষ সহ উত্তর কলকাতায় বিজেপির তরুণ ব্রিগেড রয়েছে তাঁর সঙ্গে। শুধু তা নয়, সুদীপের বিরুদ্ধে তৃণমূলের যে অংশ অসন্তুষ্ট, তাঁদের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ রেখে চলছেন তাপস।
তৃণমূলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তাপস। সূত্রের খবর, রাজ্যের ৪২টি আসনের প্রতিটিতে ২টি করে সভা করার লক্ষ্য নিয়ে চলছেন অভিষেক। কিন্তু তাঁর ঘনিষ্ঠদের কেউ কেউ মনে করছেন উত্তর কলকাতায় কোনও সভা নাও করতে পারেন তিনি। সত্যি যদি তাই হয় তাহলে সেও হতে তাপসের অ্যাডভান্টেজ!