দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর (Tamilnadu) তামিরপর্ণী নদীর তীরে মিলল প্রাচীন সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ। কয়েক বছর ধরে নদীর তীরে 'পোরুনাই' অঞ্চলে (Porunai civilisation) খোঁড়াখুড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সেখানে যে সব প্রাচীন সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে, সেগুলির কার্বন ডেটিং করতে দেওয়া হয়েছিল। তাতে জানা গিয়েছে, জিনিসগুলি ৩২০০ বছরের পুরানো। এর ফলে বোঝা গেল, অতি প্রাচীন কালে সভ্যতার বিকাশ হয়েছিল তামিলনাড়ুতে। রাজ্য সরকার বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানিয়েছে।
তামিলনাড়ু বিধানসভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন জানান, পোরুনাই অঞ্চলে একটি বহু পুরানো পাত্রে চাল ও অন্যান্য শস্যের দানা পাওয়া গিয়েছিল। তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল আমেরিকার মায়ামিতে অবস্থিত বিটা অ্যানালেটিক টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে। তারা জানিয়েছে, পাত্রটি ১১৫৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৈরি হয়েছিল।
এর আগে তুতিকোরিন জেলার আধিচান্দালুর এবং কোরকাই অঞ্চলে খনন চালিয়ে দু'টি প্রাচীন বন্দরের সন্ধান পান প্রত্নতাত্ত্বিকরা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, দু'টি বন্দর অষ্টম ও নবম খ্রিস্টপূর্বাব্দে তৈরি হয়েছিল। তা থেকে প্রমাণিত হয়, একসময় উন্নত মানের সভ্যতা ছিল ওই অঞ্চলে। নদীর নাম অনুযায়ী ওই সভ্যতাকে বলা হয় তামিরপর্ণী সভ্যতা।
আরও পড়ুনঃ
চলতি আর্থিক বছরে জিডিপির বিকাশ হবে সাড়ে নয় শতাংশ, আশাবাদী রিজার্ভ ব্যাঙ্ক
স্ট্যালিন এদিন বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে সভ্যতার ইতিহাস নতুন করে লেখা উচিত। আমরা এই উপমহাদেশের সভ্যতা যত প্রাচীন বলে মনে করতাম, বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, তার চেয়েও আগে এখানে উন্নত জনবসতি গড়ে উঠেছিল। পরে তিনি বলেন, "তামিলনাড়ুর জন্যই ভারতের সভ্যতার ইতিহাস নতুন করে লেখা যেতে পারে।"
একসময় তামিলনাড়ুর শিবগঙ্গা জেলার কিলাডি অঞ্চলে খনন চালিয়ে বহু প্রাচীন রুপোর মুদ্রা পাওয়া যায়। তাতে সূর্য, চাঁদ ও নানারকম জ্যামিতিক নকশা আঁকা ছিল। তখন জানা যায়, মুদ্রাগুলি খ্রিস্টের জন্মের ৪০০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল। অর্থাৎ প্রাক মৌর্য যুগেও শিবগঙ্গা জেলায় সভ্যতা ছিল। কিন্তু তামিরপর্ণী নদীর তীরে যে ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছে, তাতে দেখা যায়, ওই সভ্যতার বয়স আরও ৬০০ বছর বেশি।
তামিলনাড়ুর শিল্প ও প্রত্নতত্ত্ব দফতরের মন্ত্রী তাঙ্গাম তেন্নারাসু বলেন, পোরুনাই অঞ্চলে যে সভ্যতার সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, দক্ষিণ ভারতে তা সবচেয়ে প্রাচীন। তাঁর কথায়, "বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রমাণ করা হয়েছে, তামিলনাড়ুর প্রাচীন সভ্যতা সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক। বিশ্বের ধ্রুপদী ভাষাগুলির মধ্যে তামিল অন্যতম। অতীতে এখানকার সভ্যতাকে খুব বেশি প্রাচীন বলে মনে করা হত না। এখন বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে, সুদূর অতীতে তামিলনাড়ুতে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। তার সাংস্কৃতিক মান ছিল খুবই উঁচুদরের।"
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'