শিলিগুড়িতে বাংলা বলায় চাকরি হারানোর অভিযোগ তুললেন এক যুবক। পুলিশ সাড়া না দিলে, মেয়রের হস্তক্ষেপে তদন্তে নেমেছে প্রশাসন। চাঞ্চল্য।

বাংলা বলায় চাকরি হারালেন যুবক
শেষ আপডেট: 8 September 2025 19:47
বাংলা বলায় এক যুবককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার অভিযোগ উঠল শিলিগুড়িতে। পুলিশের কাছে গিয়েও সুরাহা না হওয়ায়, "টক টু মেয়র" এ ফোন করেন তিনি। এরপরেই সোমবার তাঁর বাড়িতে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন মেয়র।
সূত্রের খবর, এইচআর ম্যানেজার হিসেবে গত মার্চ মাসে শিলিগুড়িতে একটি চায়ের কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন অভিষেক সেনগুপ্ত। শিলিগুড়িতেই তাঁর জন্ম এবং বড় হওয়া। বাবা ছিলেন রেলকর্মী। অভিষেকের দাবি, সম্প্রতি এক সংখ্যালঘু নিরাপত্তাকর্মীকে ছাঁটাই করা হয়। ওই কর্মীকে ফেয়ারওয়েল দিয়ে কর্তৃপক্ষের বিষনজরে পড়ে যান তিনি। অভিষেক বলেন, "গত এক মাস ধরে আমাকে মানসিক নির্যাতন করা হয়। তারপর বলা হয় দফতরে হিন্দিতে কথা বলতে হবে। বাংলায় কথা বলা যাবে না। আপত্তি করায় চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়। এও অভিযোগ করা হয়, ওপার বাংলা থেকে এসে নাম ভাড়িয়ে আমি হিন্দু সেজে আছি। এ নিয়ে আমি মেয়র গৌতম দেবকে জানিয়েছি। পুলিশেও জানিয়েছি। ওরা ভিনরাজ্য থেকে আমার রাজ্যে এসে কেন বাংলা বলা ছাড়তে বলবে?”
অভিষেক জানান, অভিযোগ জানাতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। শিলিগুড়ি থানা থেকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেট সব জায়গায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে কোনও সহযোগিতা মেলেনি। তিনি বলেন, "বাধ্য হয়েই "টক টু মেয়র" এ ফোন করে গোটা বিষয়টি সরাসরি মেয়র গৌতম দেবকে জানাই। এরপরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন।"
অভিযোগ পেয়ে সোমবার মেয়র গৌতম দেব অভিষেক সেনগুপ্তের বাড়ি যান। তাঁর সাথে কথা বলে সমস্ত ঘটনার বিবরণ শুনে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, "যত ধনশালী হোক না কেন, কোনও রেয়াত করা হবে না। পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় এ ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। আমি নিজে এখানকার ভুমিপুত্র।"
অন্যদিকে এই ঘটনায় বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি রাজু সাহা বলেন, "খুবই দুঃখজনক ঘটনা, বাঙালি বলেই তাঁকে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া এটা কোনওভাবেই মানা যায় না। বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন দেখছে। বাংলা বা বাংলাদেশি তকমা যেভাবে দেওয়া হচ্ছে সমাজের কাছে এতে ভুল বার্তা যাচ্ছে। এটা কোনওভাবেই কাম্য নয়।"
কয়েকদিন আগে খাস কলকাতায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে বাংলা বলার জন্য হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল একদল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর আবারও বাংলায় উঠল এমন গুরুতর অভিযোগ।