দ্য ওয়াল ব্যুরো : গত মঙ্গলবার মন্ত্রিসভা ঘোষণা করে তালিবান। সেখানে কোনও মহিলা (Afghan women) স্থান পাননি। এই লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে বুধবার বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। লাঠিপেটা করে ও চাবুক মেরে তাঁদের হটিয়ে দেয় তালিবান। একটি আন্তর্জাতিক চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রতিবাদী মহিলারা স্লোগান দিচ্ছেন, 'আফগান নারী জিন্দাবাদ।' কয়েকজনের হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা আছে, 'কোনও সরকারই মহিলাদের অগ্রাহ্য করতে পারবে না', 'আমরা স্বাধীনতার গান গাই।'
বিক্ষোভে উপস্থিত এক মহিলা বলেন, "নতুন সরকারে মহিলাদের কোনও প্রতিনিধিত্ব নেই। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আমরা এখানে জড়ো হয়েছি।" তিনি জানান, তাঁদের চাবুক মারা হয়েছে। তালিবান তাঁদের বলেছে, তোমরা বাড়ি ফিরে যাও। নতুন সরকারকে মেনে নাও।
বিক্ষোভকারিণীর বক্তব্য, "যে সরকারে আমাদের কোনও প্রতিনিধি নেই, সেই সরকারকে আমরা মানব কেন?" মহিলার হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, 'যে মন্ত্রিসভায় কোনও মহিলা নেই, তা কখনও সফল হতে পারে না।' তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে তালিবান বলেছিল, তারা মহিলাদের সমান অধিকার দেবে। সেই প্রতিশ্রুতি তাদের রক্ষা করা উচিত। দিবা ফারহামান্দ নামে অপর এক আন্দোলনকারিণী বলেন, "আগে মহিলারা সবকিছু মেনে নিতেন। কিন্তু আমরা তাঁদের মতো নই। আগামী দিনেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।"
মহিলাদের বিক্ষোভের ছবি তুলতে আসা সাংবাদিকরাও তালিবানের অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। আফগানিস্তানের আরও কয়েকটি অঞ্চল থেকে সাংবাদিকদের ওপরে নিপীড়নের খবর আসছে। সম্প্রতি দুই সাংবাদিকের উপর তালিবানের নৃশংস অত্যাচারের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে।
তালিবানের অকথ্য অত্যাচারের পর ইন্টারনেটে সেই আঘাতের ছবি প্রকাশ করেছেন নিগৃহীত সাংবাদিকরা। সে ছবি দেখে শিউরে উঠেছে গোটা বিশ্ব। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছবিতে দেখা যাচ্ছে দুই সাংবাদিক ক্যামেরার দিকে পিছন ঘুরে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁদের সারা দেহে ক্ষতচিহ্ন। দগদগে ঘা, জমাট বাঁধা চাপ চাপ রক্ত দেখে তালিবান সরকারের সমালোচনায় সামিল হয়েছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলেছেন জঙ্গিদলের প্রতিশ্রুতির যে কোনও দাম নেই তা এই ছবি থেকেই পরিষ্কার।
নিগৃহীত দুই সাংবাদিকের নাম তাকি দারিয়াবি এবং নেমাতুল্লাহ নাকদি। তাঁরা আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কর্মরত। বুধবার পশ্চিম কাবুলে মহিলাদের আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, তাঁদের আলাদা একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। সাংবাদিকের পরিচয় দেওয়ার পরেই কোনও কথা শোনা হয়নি। তালিবানি অত্যাচারের মুখ থেকে বেঁচে ফরতে পারবেন ভাবতেই পারেননি তাঁরা। পরে নিজেদের দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন ওই দুই সাংবাদিক।