চাকরিহারা শিক্ষকদের অবস্থানে শনিবার যোগ দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও। এরই মধ্যে এদিন সকালে চাকরিহারাদের অবস্থান মঞ্চে পৌঁছে গেলেন প্রতীকী কবিগুরু!

প্রতীকী কবিগুরু! নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 17 May 2025 11:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের (SSC Unemployed Teachers) অবস্থান মঞ্চে প্রতীকী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
হকের চাকরি ফেরানোর দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে বিকাশ ভবনের সামনে আন্দোলন তীব্রতর করেছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। আন্দোলন হঠাতে ওই দিন রাতে পুলিশের তরফে শিক্ষকদের ওপরে বেধড়ক লাঠিচার্জ করা হয় বলে অভিযোগ। এরপর আন্দোলন আরও তীব্রতর করার ডাক দিয়েছেন চাকরিহারা যোগ্য শিক্ষকদের অধিকার মঞ্চ। তাঁদের সাফ কথা, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান আন্দোলন জারি থাকবে।
চাকরিহারা শিক্ষকদের অবস্থানে শনিবার যোগ দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট স্কুলের ছাত্রছাত্রীদেরও। এরই মধ্যে এদিন সকালে চাকরিহারাদের অবস্থান মঞ্চে পৌঁছে গেলেন প্রতীকী কবিগুরু! আইএনটিইউসির সেবাদলের তরফে আন্দোলনকারীদের প্রতি নৈতিক সমর্থন জানাতেই এই অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রতীকী রবীন্দ্রনাথের কথায়, "শিক্ষকদের মারধর করা, অপমান করা মানে শিক্ষাকেই অপমান করা। বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনের সামনে পুলিশ এটাই করেছে। পুলিশের কার্যকলাপের প্রতিবাদ জানাতে এবং শিক্ষকদের আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা দিতে এই অভিনব আয়োজন।"
এদিন বিকাশ ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কর্মীদের গোলাপ ফুলও তুলে দেন তিনি। কেন? প্রতীকী রবীন্দ্রনাথের কথায়, "বাংলা মানেই শান্তি, সম্প্রীতির জায়গা। সেই বার্তা পুলিশকেও আরও একবার মনে করিয়ে দিতে চেয়েছি।"
নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে ২০১৬ সালের আস্ত প্যানেল বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। যার জেরে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে যায়। পরে রাজ্যের আবেদনের ভিত্তিতে স্কুলগুলির পঠনপাঠন অব্যাহত রাখতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেয় আদালত। ততদিন চাকরিহারা শিক্ষকরা স্কুলে গিয়ে পড়াতে পারবেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে বিকাশভবনে পুলিশের লাঠিচার্জের প্রতিবাদে এখন থেকে স্কুলে নয় বরং সংশ্লিষ্ট স্কুলের বাইরে পড়ুয়াদের পাঠদান করাবেন চাকরিহারা শিক্ষকেরা।
আন্দোলনকারীদের আহ্বায়ক মেহেবুব মণ্ডল বলেন, ‘‘আন্দোলনও চলবে আবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে ছাত্রদের পাঠদানও। এভাবে হকের চাকরি কেড়ে নিতে দেব না।"
শনিবার দুপুরে করুণাময়ী থেকে বিকাশভবন পর্যন্ত মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। তাতে শামিল হওয়ার কথা পড়ুয়াদেরও। তার আগে প্রতীকী কবিগুরুকে দেখে এদিন আন্দোলন মঞ্চে চাকরিহারা শিক্ষকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা তৈরি হয়। তাঁদের কথায়, "আমরা নিজেদের হকের চাকরির দাবি জানিয়েছি মাত্র। আর এই আন্দোলনে এভাবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষ আমাদের পাশে থাকলে মনোবলটা আরও শক্তিশালী হবে।"
এসএসসি মামলায় (SSC Case) যাদের চাকরি হারিয়েছে তাঁদের একাংশ এই মুহূর্তে অবস্থান করছেন বিকাশ ভবনের (Bikash Bhavan) সামনে। 'যোগ্য' চাকরিহারাদের (Jobless Teachers) ওপর বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশি লাঠিচার্জ হওয়ায় শুক্রবার 'ধিক্কার দিবস' পালন করছেন তাঁরা। শুক্রবার রাতে তাঁদের 'ধিক্কার মঞ্চে' গেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
সেখানে বিরোধী দলনেতার কাছে বিশেষ আবেদন করেন চাকরিহারারা। তাঁদের আন্দোলনকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে দেশের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করতে চান তাঁরা। আর এই সাক্ষাতের সুযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য আর্জি জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। চাকরিহারাদের বক্তব্য, দেশের সাংবিধানিক প্রধান রাষ্ট্রপতি। তাই তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে সমস্যার দ্রুত সমাধান হতে পারে। আর প্রধানমন্ত্রী তো নিজেই বলে গেছিলেন যে যোগ্যদের চাকরি যেতে পারে না। তাই তাঁরা এঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ চাইছেন।