প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ভাবনার সঙ্গে রাজ্য সরকারের নীতির তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, যেখানে দেশ আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে, সেখানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে পরনির্ভর করে রাখার রাজনীতি করছেন।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 3 February 2026 19:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরি ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রশ্নে রাজ্য সরকারকে (TMC Govt) একহাত নিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানালেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার যুব বিজেপির এক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের (TMC Govt) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।
শুভেন্দুর বক্তব্য, বাংলার যুবসমাজ চাকরি চায়, ভবিষ্যৎ চায়। আর সেই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরি, যা সম্ভব একমাত্র বিজেপি সরকার গঠনের মাধ্যমে।
মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, তৃণমূল সরকার উন্নয়নের বদলে ভাতা-নির্ভর রাজনীতি চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর কথায়, “রাজ্যে কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার বদলে মানুষকে ভাতার ওপর নির্ভরশীল করে তোলাই এখন সরকারের একমাত্র লক্ষ্য।”
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Atmanirbhar Bharat) ভাবনার সঙ্গে রাজ্য সরকারের নীতির তুলনা টেনে শুভেন্দু বলেন, যেখানে দেশ আত্মনির্ভরতার পথে এগোচ্ছে, সেখানে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে পরনির্ভর করে রাখার রাজনীতি করছেন। তাঁর কটাক্ষ, সাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি না করে ভাতা দিয়ে ভোট ধরে রাখাই এখন রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য।
শিক্ষাক্ষেত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা - প্রতিটি স্তম্ভ একে একে ভেঙে পড়েছে। শিক্ষক নিয়োগ থেকে শিক্ষা পরিকাঠামো, সর্বত্র অনিয়ম ও অচলাবস্থার অভিযোগ তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, যত দিন বর্তমান তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকবে, তত দিন রাজ্যে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিল্প বিনিয়োগ থমকে থাকবে, চাকরির সুযোগ কমবে, আর রাজ্যের যুবসমাজ বাধ্য হবে ভিন্রাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দিতে। এই পরিস্থিতি বদলাতে হলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যুব বিজেপির কর্মীদের উদ্দেশে শুভেন্দু বলেন, শুধু ভোটের সময় নয়, নিয়মিত ভাবে মানুষের কাছে যেতে হবে। রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রের দুরবস্থা, চাকরির অভাব এবং ভাতা-নির্ভর রাজনীতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে সাধারণ মানুষের সামনে। তাঁর মতে, মানুষ এখন বিকল্প খুঁজছে, আর সেই বিকল্প বিজেপি।
সভা থেকে বিরোধী দলনেতা স্পষ্ট বার্তা দেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন শুধুমাত্র ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং বাংলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। চাকরি, শিক্ষা ও আত্মনির্ভরতার প্রশ্নে পরিবর্তন আনতেই হবে। আর সেই পরিবর্তনের জন্যই বিজেপিকে জেতানো প্রয়োজন - এমনই দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী।
যুব বিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। ভাতা বনাম চাকরি, পরনির্ভরতা বনাম আত্মনির্ভরতা - এই দ্বন্দ্বকে সামনে রেখেই আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতি আরও তীব্র হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।