নতুন স্লোগানও তোলেন তিনি - ‘আমার পাড়া, তৃণমূলকে তাড়া’। বলাই বাহল্য, এইভাবে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প - আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধানকে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
.jpeg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 25 October 2025 18:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রশাসনের অনুমতি ছিল না। তা সত্ত্বেও শনিবার গঙ্গারামপুরে (Gangarampur) বিজেপি (BJP) ‘বিজয় সংকল্প সভা’ সম্পন্ন করেছে। আর সেই সভা থেকেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) রাজ্য সরকারকে নিশানা করে একাধিক আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন।
সভা মঞ্চ থেকে আগত দলীয় কর্মী-সমর্থকদের শুভেন্দু বলেন, “দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ জানেন কীভাবে ৬-০ করতে হয়। এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে হবে, না হলে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) থাকবে না।” এই পরিপ্রেক্ষিতে সংখ্যালঘু ভোট নিয়ে কার্যত বিতর্কিত মন্তব্য করে তিনি এও বলেন, “আমরা মুসলিম ভোট পাই না, আমি বলিনি চাই না। নরেন্দ্র মোদী আপনাদের সব দিয়েছে। আজ তাঁদের সামনে রেখে রাজনীতি চলছে।”
এরপর আরও কড়া সুরে তিনি দাবি করেন, “অনেকেই ভারতীয় মুসলমান নন, তারা অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গা। বিএসএফকে জমি দেয়নি রাজ্য সরকার। বাংলাদেশেও এখন হিন্দুরা ভাল নেই, পশ্চিমবঙ্গেও হিন্দুদের সংখ্যা কমছে। ২০২৭-এ জনগণনা হলে দেখা যাবে হিন্দুরা ৬৫ শতাংশে নেমে গেছে।”
ধর্মীয় মন্তব্যের পাশাপাশি বিজেপি নেতার অভিযোগ, “এই রাজ্যে চাকরি (Job) নেই, পিএসসি (PSC) নেই, এসএসসি (SSC) নেই। গত এক বছরে তৃণমূল সরকার ৮ হাজারের বেশি স্কুল বন্ধ করেছে। তৃণমূল থাকলে চাকরিও হবে না, ভবিষ্যৎও হবে না।” ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করে রাজ্যজুড়ে বিজেপির এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে গঙ্গারামপুরের সভায় সবমিলিয়ে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।
তবে এখানেই থেমে থাকেননি শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সভা থেকে তিনি শিল্প, জল প্রকল্প ও আবাস যোজনার বিষয় নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন। বলেন, “টাটাদের পর একের পর এক শিল্প পালিয়েছে। গ্রামে গ্রামে তাই জোট বাঁধতে হবে”। এই প্রসঙ্গে নতুন স্লোগানও তোলেন তিনি - ‘আমার পাড়া, তৃণমূলকে তাড়া’। বলাই বাহল্য, এইভাবে রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প - আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধানকে কটাক্ষ করেছেন তিনি।
শুভেন্দুর কথায়, কেন্দ্র আবাস যোজনায় ৩০ হাজার কোটি দিয়েছে, তবু মানুষ ঘর পাচ্ছেন না। জল আছে, নল নেই - এই সরকারকে বিদায় দিতে হবে। শেষে তিনি আরও একবার তৃণমূলকে নিশানা করে বলেন, “তৃণমূল এখন ধর্ষকদের পার্টি। কামদুনি থেকে কালিয়াগঞ্জ - একটার পর একটা ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে না তাড়ালে পরিস্থিতি পাল্টাবে না।”