বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছিল, অনুবাদের ভুলে এই সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি।

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 11 July 2025 13:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Vidyasagar University) প্রশ্নপত্রে বিপ্লবীদের ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তা নিয়ে বিতর্কের মুখে ইতিমধ্যেই দুই অধ্যাপককে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছিল, অনুবাদের ভুলে এই সমস্যা হয়েছে। কিন্তু তাতে বিতর্ক থামেনি। এবার ঘটনা নিয়ে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
পশ্চিম মেদিনীপুরের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার স্নাতক স্তরের ষষ্ঠ সেমেস্টারের ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। সেখানে একটি প্রশ্ন ছিল, ‘মেদিনীপুরের তিন জন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নাম কর, যারা সন্ত্রাসবাদীদের দ্বারা নিহত হন?’ এই প্রশ্ন ঘিরেই বিতর্ক বাধে। অনেকেই ‘সন্ত্রাসবাদী’ উল্লেখে ঔপনিবেশিক মানসিকতার প্রতিফলন দেখতে পেয়েছেন।
এ ব্যাপারে শুভেন্দু লিখেছেন, আরও একবার ইতিহাস বিকৃতি করে শহিদদের অপমান করল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫ সালের ইতিহাস অনার্স ষষ্ঠ সেমেস্টারের প্রশ্নপত্রে মেদিনীপুরের সাহসী বিপ্লবীদের ‘মিলিট্যান্ট’ ও ‘টেররিস্ট’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা একবারের ভুল নয়, বরং ইচ্ছাকৃত বিকৃতি— ঠিক যেমনটা হয়েছিল ২০২৩ সালে।
Absolutely Outrageous
The Administrative Authorities of Vidyasagar University have once again insulted our revered freedom fighters by labeling the brave revolutionaries of Medinipur as "militants" and "terrorists" in the 2025 History Honours Sixth Semester question paper.
This… pic.twitter.com/0FW8bsuYvx— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) July 11, 2025
শুভেন্দু বলেন, তৎকালীন ইতিহাস বিভাগের প্রধান ড. নির্মল কুমার মাহাতোর আমলেই হয়েছিল সেই ঘটনা। যিনি আবার তৃণমূলের প্রফেসর সংগঠন ওয়েবকুপার গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তাঁকে কোনও শাস্তি তো দেওয়া হয়নি, বরং তাঁকে পরবর্তীতে সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক পদে উন্নীত করা হয়েছে!
মেদিনীপুরের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, যাঁদের এই ইতিহাস সামান্যও জানা, তাঁরা জানেন, ব্রিটিশ শাসকেরা এখানে কীভাবে দমন-পীড়ন চালিয়েছিল। সেই সময় সাহসিকতার সঙ্গে ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট পেডি (১৯৩১), ডগলাস (১৯৩২) ও বার্জ (১৯৩৩)-এর বিরুদ্ধে আঘাত হেনেছিলেন বিপ্লবীরা।
বস্তুত, পেডিকে হত্যা করেন বিমল দাসগুপ্ত ও জ্যোতিজীবন ঘোষ। ডগলাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালান প্রভাংশুশেখর পাল ও প্রদ্যোতকুমার ভট্টাচার্য। বার্জকে হত্যা করেন অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী প্রমুখ।
এই শহিদদের মধ্যে অনেকেই ফাঁসির দড়িতে প্রাণ দিয়েছেন। কেউ কেউ জেল খেটেছেন। বার্জের হত্যা অভিযানে অনাথবন্ধু পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহিদ হন, আর মৃগেন্দ্রনাথ আহত অবস্থায় হাসপাতালে মারা যান।
শুভেন্দু বলেন, আজও মেদিনীপুর শহর ও আশেপাশে তাঁদের মূর্তি রয়েছে। সেখানকার মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। অথচ সেই বিপ্লবীদেরই এইভাবে অপমান করা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্নপত্রে! শহিদদের কীর্তি ইতিহাসে খোদাই রয়েছে। তাঁদের ‘টেররিস্ট’ বলার দুঃসাহস আসছে কোথা থেকে?
বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট অভিযোগ, এই প্রশ্ন সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেও যায়। ড. মাহাতোর পদোন্নতি কি এই বিকৃত ইতিহাসের স্বীকৃতি? উপাচার্যের নীরবতা কি রাজনৈতিক মদতের ইঙ্গিত? এটা দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি এক চরম আঘাত। অবিলম্বে ড. মাহাতোকে বরখাস্ত করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত।
শুভেন্দু জানান, "একইসঙ্গে জনমানসে ঘুরে ফিরে আসছে একটাই প্রশ্ন— তৃণমূল কংগ্রেস কি সত্যিই মনে করে, আমাদের শহিদ বিপ্লবীরা ‘সন্ত্রাসবাদী’ ছিলেন? এই নীরবতা আরও বিপজ্জনক। এখনই জবাব চাই।"