সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো সেই চিঠিতে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) দাবি করেছেন, SIR কোনও ‘হঠকারী’ বা ‘অপরিকল্পিত’ প্রক্রিয়া নয়। বরং ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারের নাম ছাঁটাই করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 5 January 2026 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) ঘিরে রাজ্য সরকারের আপত্তির পাল্টা জবাব দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছেন তিনি।
সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পাঠানো সেই চিঠিতে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) দাবি করেছেন, SIR কোনও ‘হঠকারী’ বা ‘অপরিকল্পিত’ প্রক্রিয়া নয়। বরং ভুয়ো ও অযোগ্য ভোটারের নাম ছাঁটাই করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই ভোটার তালিকায় বেআইনি নাম ঢোকানোর সুযোগ পেয়েছে শাসকদল, আর সেই ‘অস্বস্তিকর সত্য’ সামনে আসছে বলেই আপত্তি তুলছে রাজ্য সরকার।
চিঠিতে বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর তরফে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা আসলে কমিশনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা। শুভেন্দুর দাবি, মাঠপর্যায়ে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে নিজেদের নথি যাচাই করাচ্ছেন এবং কমিশনের পদক্ষেপকে সমর্থন করছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ‘হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা’ ও কোনও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছাড়াই চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Gyanesh Kumar) কড়া চিঠি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কোনও লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা আইনি নির্দেশ ছাড়াই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাচারী। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন উঠছে বলেই মত নবান্নের। এই ধরনের অনিশ্চয়তা ভোটারদের নাম অকারণে বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এরপরই কমিশনকে পাঠানো পাল্টা চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা।
SIR প্রক্রিয়ায় প্রশিক্ষণ, সময়সীমা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশ্নে রাজ্যের অভিযোগও খারিজ করেছেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, সারা দেশেই এক নিয়মে এই সংশোধন চলছে। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও স্বচ্ছ ও কার্যকর। কোথাও কোনও সংশোধন হলে তা পরিস্থিতির নিরিখেই করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কমিশনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং বুথ স্তরের এজেন্টদের ভূমিকা সীমিত করার সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেছেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই ব্যবস্থা, যাতে কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ না হয়।
চিঠির শেষাংশে নির্বাচন কমিশনকে কোনও রকম চাপের কাছে নতি স্বীকার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, এই সংশোধন প্রক্রিয়াই গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রকৃত ভোটারের অধিকার রক্ষা করবে।