এসআইআর ইস্যুতে রাজভবন চত্বরে মিছিল করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ও পদবীতে ইচ্ছাকৃত ভুল করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একাধিক জেলাশাসক এবং বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) লক্ষ লক্ষ নামের ক্ষেত্রে এই ভুল করেছেন, যা কোনওভাবেই দুর্ঘটনাজনিত নয়।
.jpg.webp)
শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 2 February 2026 17:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (West Bengal SIR) প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর থেকেই রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) তরফে বিজেপি (BJP) এবং নির্বাচন কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তোলা হলেও, এ বার সেই অভিযোগকে উল্টে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, প্রকৃত হয়রানির নেপথ্যে রয়েছে শাসক দলই এবং সেই পরিকল্পনার নায়ক স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এসআইআর ইস্যুতে রাজভবন চত্বরে মিছিল করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ও পদবীতে ইচ্ছাকৃত ভুল করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, একাধিক জেলাশাসক এবং বুথ লেভেল অফিসার (BLO) লক্ষ লক্ষ নামের ক্ষেত্রে এই ভুল করেছেন, যা কোনওভাবেই দুর্ঘটনাজনিত নয়। শুভেন্দুর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) এবং আইপ্যাকের (I-PAC) পরামর্শেই গোটা রাজ্যজুড়ে এই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। এই ঘটনায় যাঁরা যুক্ত, তাঁদের সকলকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানান তিনি।
বিরোধী দলনেতার আরও অভিযোগ, এসআইআর ঘিরে যে হয়রানির অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত। এর পিছনে মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে প্রমাণ পেশ করার হুঁশিয়ারিও দেন শুভেন্দু। তিনি উল্লেখ করেন, প্রাক্তন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ (Manoj Pant) এবং বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর (Nandini Chakraborty) উপস্থিতিতে জেলাশাসকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছিল। সাম্প্রতিক একটি বৈঠকের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখানে সকল আধিকারিককে মোবাইল ফোন বাইরে রেখে বৈঠকে যোগ দিতে বলা হয়েছিল।
শুভেন্দুর দাবি, ওই বৈঠকেই নাম ও পদবীতে কীভাবে ভুল করতে হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়। এবং সেই নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী নিজেই দিয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ। এই পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের আড়ালে রাজনৈতিক কৌশল বলে ব্যাখ্যা করেন বিরোধী দলনেতা।
কেন এমন পদক্ষেপ নিল তৃণমূল সরকার - তার ব্যাখ্যা দিতেও পিছপা হননি শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, আর জি কর হাসপাতাল সংক্রান্ত বিতর্ক থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, অনুপ্রবেশ-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ থেকে নজর ঘোরাতেই এসআইআর ইস্যুকে সামনে আনা হয়েছে। সব সময় যেন ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েই আলোচনা চলে, আর বাকি ইস্যুগুলি আড়ালে চলে যায় - এই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁর। গোটা ঘটনাকে ‘ন্যারেটিভ তৈরির খেলা’ বলেও কটাক্ষ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
প্রসঙ্গত এই ইস্যুতেই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি দেন বিরোধী দলনেতা। চিঠিতে ২ তারিখ মানে আজ সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়। তবে নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মুখ্যসচিবের দফতর থেকে পাল্টা বার্তা পাঠিয়ে জানানো হয়, আজ নয়, ৬ তারিখ সময় দেওয়া সম্ভব। সেই প্রস্তাবের বিরুদ্ধেই ফের চিঠি দেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর যুক্তি, ৬ তারিখ বিধানসভার অধিবেশন চলবে, ফলে সেদিন সাক্ষাৎ করা সম্ভব নয়। যদিও সেই দ্বিতীয় চিঠির কোনও উত্তর নবান্ন থেকে আসেনি বলে বিজেপির দাবি।