সোমবার বিকেল ৩টে গড়িয়ে ৪টে বেজে গেলেও নবান্ন থেকে কোনও চিঠি সিইও মনোজ আগরওয়ালের দফতরে এসে পৌঁছয়নি। অর্থাৎ কমিশনের কথা এখনও মানেনি সরকার।

শেষ আপডেট: 11 August 2025 16:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য সচিব মনোজ পন্থকে চিঠি দিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের অফিস (Chief Election Officer) সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, চার জন অফিসারের বিরুদ্ধে সাসপেনশনের সুপারিশ নিয়ে সরকার কী পদক্ষেপ করেছে তা জানাতে হবে। সোমবার বিকেল ৩টের মধ্যে জানাতে হবে। কিন্তু সোমবার বিকেল ৩টে গড়িয়ে ৪টে বেজে গেলেও নবান্ন থেকে কোনও চিঠি সিইও মনোজ আগরওয়ালের দফতরে এসে পৌঁছয়নি। অর্থাৎ কমিশনের কথা এখনও মানেনি সরকার।
প্রশ্ন হল এবার কী?
মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দফতরের এক অফিসার এদিন সকালেই বলছিলেন, রাজ্য সরকার হয়তো ৩টের মধ্যে চিঠি দেবে না। কারণ ফাঁপড়ে পড়েছে। দু’জন ডব্লিউবিসিএস (WBCS) অফিসার সহ চারজনকে সাসপেন্ড করলেই অফিসার সংগঠন হল্লা শুরু করে দেবে। সরকারের জন্য তাতে চাপ বাড়তে পারে।
ব্যাপারটা কতকটা সেরকমই। কমিশনের হুঁশিয়ারির মুখে সরকার নরম হয়ে চার অফিসারকে সাসপেন্ড করে দেবে কিনা, তা দেখতে এদিন অ্যাসোসিয়েশনের অফিসাররা আগ্রহের সঙ্গে বসেছিলেন। সংগঠনের এক নেতা তথা অফিসার বলেন, সাসপেন্ড করলে সরকার আগে সংগঠনকে জানিয়ে রাখবে বলেই মনে করি। ডব্লিউবিসিএস সংগঠনকে না জানিয়ে অফিসারদের সাসপেন্ড করার ঝুঁকি হয়তো নেবে না।
জানিয়ে রাখা ভাল, ভোটার তালিকায় নতুন তোলার ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগে বারুইপুর ও ময়না বিধানসভার দু’জন ইআরও এবং দু’জন সহকারী ইআরও-কে সাসপেন্ড করার সুপারিশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাঁদের বিরুদ্ধে এআইআর দায়ের করার সুপারিশও করা হয়েছে। তবে ওই চিঠি পাওয়ার পরও কোনও পদক্ষেপ করেনি সরকার। বরং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর পর দু’দিন দুটি জনসভায় বলেছেন, তিনি অফিসারদের সাসপেন্ড করবেন না।
নবান্নের একটি সূত্রের মতে, কমিশনের সুপারিশের বিরুদ্ধে শেষমেশ আদালতে যেতে পারে রাজ্য সরকার। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চে মামলা করা হতে পারে। রাজ্যের বক্তব্য হবে, এখন ভোট হচ্ছে না। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ার নেই কারও বিরুদ্ধে এ ধরনের পদক্ষেপ করার।
কমিশনের অবশ্য বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি আইন অনুযায়ী তাদের সেই এক্তিয়ার রয়েছে। কমিশন কোনও এক্তিয়ার বহির্ভূত পদক্ষেপ করেনি। এ ব্যাপারে দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসারদের সঙ্গে লাগাতার যোগাযোগ রেখে চলেছেন মনোজ আগরওয়াল। সূত্রের খবর, নবান্ন বিকেল ৩ টের মধ্যে যে কোনও চিঠি পাঠায়নি তা মুখ্য নির্বাচন কমিশনের অফিসকে নোট পাঠিয়ে জানিয়েছে সিইও অফিস।
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও এদিন টিপ্পনি কেটে বলেন, ওদের দৌড় ও পর্যন্তই। তবে আদালত থেকে সরকার কোনও সুরাহা পাবে বলে মনে হয় না। কারণ, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কথাই শেষ কথা। আদালত সচরাচর তাতে হস্তক্ষেপ করে না। তাই অবধারিত ভাবেই সরকারের মুখ পুড়তে চলেছে।