লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মহাদেবপুরায় ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কয়েক মিনিট আগেই এই মন্তব্য করেন স্টালিন।

রাহুল গান্ধী ও স্ট্যালিন
শেষ আপডেট: 11 August 2025 14:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও ডিএমকে সভাপতি এমকে স্টালিন (MK Stalin) সোমবার বিজেপি (BJP) ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির “ভোট কারচুপির যন্ত্র” হয়ে উঠেছে। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মহাদেবপুরায় ভোটার তালিকা কারচুপির অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের সাংসদদের নিয়ে মিছিলের নেতৃত্ব দেওয়ার কয়েক মিনিট আগেই এই মন্তব্য করেন স্টালিন।
এক্স-এ পোস্ট করে স্টালিন বলেন, “মহাদেবপুরায় যা ঘটেছে, তা প্রশাসনিক গাফিলতি নয়; এটা জনগণের রায় চুরির পরিকল্পিত চক্রান্ত।” তিনি রাহুলের অভিযোগকে সমর্থন জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রত্যেক রাজ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভোটার মুছে দেওয়ার প্রথা বন্ধের দাবি জানান।
এর আগে নজিরবিহীন অভিযোগে রাহুল গান্ধী বলেন, মহাদেবপুরায় এক লক্ষেরও বেশি ভুয়ো ভোট রয়েছে, যা পাঁচটি উপায়ে সম্ভব হয়েছে— ডুপ্লিকেট নাম, ভুয়ো ও অবৈধ ঠিকানা, এক ঠিকানায় বিপুল ভোটার, অবৈধ ছবি এবং ফর্ম ৬-এর অপব্যবহার। নির্বাচন কমিশনের শপথপত্রে অভিযোগ জানানোর শর্ত খারিজ করে রাহুল বলেন, সাংসদ হিসেবে সংবিধানের শপথ নেওয়াই যথেষ্ট।
কংগ্রেসের দাবি, ভোটার তালিকায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিজেপির জয়ের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে— যা রাহুলের বিশ্লেষণেই প্রমাণিত। এই অভিযোগ মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের পরেও শোনা গিয়েছিল, যদিও তখন প্রমাণ ছিল সীমিত। সমালোচকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের ভারী পিডিএফ আকারে ভোটার তালিকা প্রকাশের নিয়ম স্বাধীনভাবে যাচাই প্রায় অসম্ভব করে দেয়। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি. চিদম্বরম মন্তব্য করেন, “নির্বাচন কমিশন আদালত নয়”, আর এই ঘটনার ফলে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থা বড় ধাক্কা খেয়েছে।
এ ঘটনার জেরে স্বাধীন তদন্ত ও ভোটার তালিকার সংস্কারের দাবিতে নতুন করে জোর উঠেছে— যার মধ্যে রয়েছে ঘরে ঘরে যাচাই এবং মেশিনে-পঠিত তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা। তবে কমিশন অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, সব প্রক্রিয়াই স্বচ্ছ এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম। রাহুলকে শপথপত্র দিয়ে প্রমাণ পেশের চ্যালেঞ্জও জানিয়েছে তারা।
বিজেপি মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী রাহুলের অভিযোগকে ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে অপমান করছেন।” এদিকে, কর্নাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের ভোটের আগে ডিএমকে-র এই সরব অবস্থান তামিলনাড়ুতেও একই ধরনের বিতর্ক রুখতে আগাম প্রস্তুতি।