
শেষ আপডেট: 6 August 2019 18:30
কলেজ পাস করে দু’জনেই তখন আইনজীবী। ১৯৭৩ সাল। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে পথ চলা শুরু হলো সুষমা ও স্বরাজের। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তখন টালমাটাল। লড়াকু সমাজবাদী নেতা জর্জ ফার্নান্ডেজের রেল আন্দোলন ঘিরে তোলপাড় গোটা দেশ। ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। গ্রেফতার করা হলো জর্জ ফার্নান্ডেজকে। সেই মামলা গড়াল সুপ্রিম কোর্টে। হাতে হাত মিলিয়ে সমাজবাদী নেতার মামলা লড়তে শুরু করলেন সুষমা ও স্বরাজ। নিজেদের মধ্যে মিল তো ছিলই, সমস্যা ছিল সমাজবাদী ও আরএসএসের সংঘাত নিয়ে। তবে নিয়তি কিছু অন্য পরিকল্পনাই হয়তো করে রেখেছিল। ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী সমাজবাদী নেতাদের সঙ্গে তখন একজোট হয়েছিলেন আরএসএসের নেতারা। সুতরাং আইনজীবী হিসেবে একসঙ্গে মামলা লড়তে আর কোনও অসুবিধাই হয়নি দু’জনের।
আইনের পথে একসঙ্গে চলতে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন, জীবনের পথেও চলবেন একই সঙ্গে। জরুরি অবস্থা চলার সময়েই ঠিক করেন বিয়ে করবেন দু’জনে। আপত্তি তোলে পরিবার। হরিযানার রক্ষণশীল পরিবারের চোখ রাঙানি থামাতে পারেনি সুষমাকে। বাধার পাহাড় টপকে ১৯৭৫ সালের ১৩ জুলাই দু’জোড়া হাত এক হয়।
একে অপরের রাজনৈতিক মতাদর্শে কখনওই হস্তক্ষেপ করেননি। পেশা ও রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন দু’জনেই। পেরিয়ে এসেছেন ৪৪ বছরের আইনজ্ঞ দম্পতির একমাত্র মেয়ে বাঁশুরিও একজন আইনবিদ। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী।
জীবনের অনেক উত্থান-পতন দেখেছেন সুষমা-কৌশল। হয়তো এ বার সেই লড়াই থেকে অব্যাহতি চাইছিলেন দু’জনেই। একসঙ্গে কাটাতে চেয়েছিলেন অবসর। তাই সুষমা যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন মন্ত্রী হওয়ার লড়াইতে তিনি আর নেই, সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছিলেন স্বরাজ নিজেই। টুইটে সে কথা অকপটে স্বীকারও করেছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, “নির্বাচনে না লড়ার তোমার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। আমার মনে পড়ছে, মিলখা সিংও একসময়ে দৌড়নো বন্ধ করেছিলেন।” স্বরাজ কৌশলের কথায়, “ম্যারাথন শুরু হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। কেটে গেছে ৪১ বছর। ১১টি নির্বাচনে লড়েছো তুমি। শুধুমাত্র একমাত্র ১৯৯১ এবং ২০০৪ সালে দল তোমাকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর টিকিট দেয়নি।”
প্রিয়তমাকে কৌশল বলেছিলেন, ‘‘ম্যাডাম গত ৪৬ বছর ধরে তোমার পিছনে দৌড়চ্ছি। এ বার তো থামো! আমার বয়স তো আর ১৯-এর কোঠায় নেই। আমিও হাঁফিয়ে যাই আজকাল...’’
স্বামীর কথা শুনে ৪১ বছরের ম্যারাথন থামিয়েছেন সুষমা। কিন্তু থেমে গেছেন জীবনের পথেই। আচমকাই। সকলকে ফাঁকি দিয়ে।