দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় তখন ভোটের বাজার তাততে শুরু করেছে। সেই সময়েই জানা গিয়েছিল, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংয়ের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার বরাত পেয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু সেই পিকের নাম করেই বিরাট জালিয়াতি চক্র চলছে পাঞ্জাব জুড়ে। আর তার শিকার হচ্ছেন কংগ্রেস নেতারা।
সম্প্রতি পাঞ্জাবের কংগ্রেস বিধায়ক কুলদীপ সিং বৈদকে প্রশান্ত কিশোরের নাম করে ফোন করা হয়। তাঁকে বলা হয়, তাঁর কেন্দ্রের সমীক্ষা রিপোর্ট এমন ভাবে তৈরি করে দেওয়া হবে যাতে তিনি টিকিট পান। বিনিময়ে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। সন্দেহ হতেই জলন্ধর পুলিশে অভিযোগ করেন এই কংগ্রেস নেতা।
জানা যাচ্ছে লুধিয়ানা, জলন্ধর, ভাটিন্ডা, অমৃতসর সহ-একাধিক কংগ্রেস নেতাকে পিকে-র নাম ভাঁড়িয়ে বলা হয়েছে, ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে। এ ব্যাপারে কংগ্রেস নেতারা বা প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা আইপ্যাক কিছু না বললেও, পাঞ্জাব পুলিশ এই জালিয়াতি চক্রের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, গত মাসেই এমন একটি দলের বিষয় প্রথম নজরে আসে। তারপর কুলদীপের অভিযোগ পেতেই আরও সতর্ক হয়ে নামে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, লুধিয়ানা, ভাটিন্ডা, জলন্ধর, অমৃতসর ও সাঙ্গুরের কমপক্ষে ৩০ থেকে ৪০ জন নেতাকে পিকে-র নাম নিয়ে ফোন করে নিদেনপক্ষে ৫ কোটি টাকা আদায় করেছে এই চক্র। অন্যরা এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও প্রথম থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন গিলের বিধায়ক কুলদীপ সিং বৈদ।
ইতিমধ্যেই এই রাকেশ কুমার বাসিন ও রজত কুমার রাজা নামক দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই ব্যক্তিকে জেরা করে প্রধান চক্রী গৌরব শর্মার খোঁজ পাওয়া যায়। তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
জলন্ধর পুলিশের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, এটি বিরাট একটি চক্র। কতদূর জাল বিস্তার করেছে এই জালিয়াতরা তা জানতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পাঞ্জাব পুলিশের অনুমান, বাংলাতেও এই চক্র সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে। কারণ, বাংলাতেও তৃণমূলের পরামর্শদাতা ছিলেন প্রশান্ত।
এমনিতে পিকে ক্যাপ্টেনের ভোটের দায়িত্ব নেওয়ার পরে অনেক কংগ্রেস নেতার মধ্যেই ক্ষোভ দলা পাকিয়ে উঠেছিল। প্রদেশ কংগ্রেসের কাছে তাঁরা আশঙ্কাপ্রকাশ করেছিলেন যে, এই ভোটে তাঁদের টিকিট দেওয়ার ব্যাপার পিকে-ই চূড়ান্ত করবেন। যদিও সেই সময় ক্যাপ্টেন তাঁদের বোঝান, টিকিট দেবে হাইকম্যান্ডের নির্বাচন কমিটিই। প্রশান্ত শুধু প্রচারের কৌশল সংক্রান্ত বিষয় দেখবেন। ডিজিটাল প্রচারকে শক্তিশালী করবেন। তারপর অবশ্য সেই বিদ্রোহ কিছুটা প্রশমিত হয়। কিন্তু এই জালিয়াত চক্রের ঘটনা, পাঞ্জাব কংগ্রেসকে নতুন করে আন্দোলিত করেছে।