দ্য ওয়াল ব্যুরো : সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংরক্ষণের সুযোগ পাওয়া কারও মৌলিক অধিকার নয়। কিছুদিন আগে এমনই মন্তব্য করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সংরক্ষণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে শীর্ষ আদালতের ওই মন্তব্য নিয়ে সোমবার ধুন্ধুমার বাধে লোকসভায়। বিরোধীরা একসঙ্গে অভিযোগ করেন, সুপ্রিম কোর্ট ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকার বোঝানোর চেষ্টা করে, শীর্ষ আদালতের বক্তব্য নিয়ে সরকারের কিছু করার নেই। কিন্তু কংগ্রেস দাবি করে, বিজেপি ও আরএসএসের মতো সংগঠন বরাবরই সংরক্ষণের বিরোধী।
বিরোধীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করুক, সংরক্ষণ নিয়ে রায় যেন খতিয়ে দেখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য ছিল, যদি দেখা যায়, কোনও রাজ্যে সরকারি চাকরিতে জনগণের নির্দিষ্ট একটি অংশের প্রতিনিধিত্ব খুবই কম, কেবল তখনই সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে সংরক্ষণ চালু করতে বলা যায়।
বিচারপতিরা বলেন, চাকরি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সংরক্ষণ করা হবে কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজ্য সরকার। কিন্তু তাকে সংরক্ষণ করতে বাধ্য করা যায় না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, “এটা তো সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত। ভারত সরকারের এক্ষেত্রে কিছুই করার নেই।” পরে তিনি বলেন, “সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এসম্পর্কে বিবৃতি দেবেন। সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করা উচিত।”
কংগ্রেসের সমালোচনা করে রাজনাথ বলেন, “তারা এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করছে।” পরে তিনি বলেন, “২০১২ সালে উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। তখন তারা তফসিলী জাতি-উপজাতিদের জন্য সংরক্ষণ না করেই সরকারি চাকরিতে লোক নিয়েছিল।”
বিরোধীরা দাবি করেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ নিয়ে সংসদের দুই কক্ষে আলোচনা হোক। এক সাংসদ বলেন, সংবিধান বিপন্ন। স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, সংবিধান নয়, লোকসভার সম্মান বিপন্ন।