
শেষ আপডেট: 12 July 2022 10:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারাধীন বন্দিদের (prisoners) জামিন দেওয়া তরান্বিত করতে পৃথক একটি আইন তৈরি করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে পরামর্শ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।
বিচারপতি সঞ্জয় কিষাণ কৌল এবং এমএম সুন্দ্রেশের বেঞ্চ এই পরামর্শ দিয়ে বলেছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেন সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করে। কারণ, অতীতেও সুপ্রিম কোর্ট এবং একাধিক হাইকোর্ট এই মর্মে সরকারকে পরামর্শ দিয়েছিল।
আদালতের বক্তব্য, ভারতে ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার অত্যন্ত কম। জামিনের আবেদনের বিচার করার সময় আদালতকে এই বিষয়টি খেয়াল রাখতে হয়। অপরাধীকে সাজা দেওয়া যেমন বিচার ব্যবস্থার কাজ, তেমন প্রত্যেক নাগরিকের মুক্ত জীবনযাপনের সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টিও বিচার্য। অপরাধী মাত্রে দোষী প্রমাণিত হওয়া পর্যন্ত জেলে আটকে রাখা সেই অধিকারের পরিপন্থী।
এই প্রসঙ্গে দিল্লি হাইকোর্টের একটি নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। তাতে বলা হয়েছিল,
ক) ভারত সরকার একটি জামিন আইন (Bail Law) প্রণয়নের কথা বিবেচনা করতে পারে যাতে জামিন মঞ্জুর করা সহজতর হয়৷
খ) তদন্তকারী সংস্থা এবং তাদের আধিকারিকরা অবশ্যই ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৪১ এবং ৪১এ ধারা বলে পদক্ষেপ করবেন। অর্থাৎ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেফতার করতে পারবে না এবং থানায় তলব করলে নোটিস পাঠাতে হবে।
সর্বোচ্চ আদালতের নতুন করে জামিনের বিষয়টি স্মরণ করানোর কারণ, দেশের জেলখানাগুলিতে বন্দিদের দুর্দশা। প্রায় সব জেলেই অতিরিক্ত বন্দি আছে।
যেমন পশ্চিমবঙ্গে ৬০টি জেলখানা বা সংশোধনাগারে মোট বন্দি থাকতে পারে ২১৭১৪ জন। সেখানে গত বছর নভেম্বরে বন্দি সংখ্যা ছিল ২৫,২৬৩। এই বন্দিদের মধ্যে আবার ২১,৩১২ জন ছিল বিচারাধীন বন্দি। অর্থাৎ মোট বন্দির ৮৫ শতাংশই ছিল বিচারাধীন।
ছবিটা সব রাজ্যেই কম বেশি একই। পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, বিচারের দীর্ঘসূত্রিতার কারণেই হাজার হাজার বিচারাধীন বন্দিকে জেলে পচে মরতে হচ্ছে। জেল পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি চারজনের তিনজন বিচারাধীন বন্দি। সুপ্রিম কোর্ট এইভাবে সাংবিধানিক ও মানবাধিকার হরণে লাগাম টানতে চাইছে।
মহারাষ্ট্র সংকট: বিধায়কদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নয়, বিধানসভার স্পিকারকে বলল সুপ্রিম কোর্ট