
শেষ আপডেট: 21 October 2022 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'এটা একবিংশ শতাব্দী! ধর্মের নামে আমরা কোথায় পৌঁছেছি?', শুক্রবার ঘৃণাভাষণ সংক্রান্ত মামলায় (Hate Speech) এমনই মন্তব্য করল দেশের শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। মামলাকারীদের আবেদন ছিল, ভারতে মুসলিমদের আক্রমণ করা এবং তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এদিন বিচারপতি কেএম জোসেফ ও বিচারপতি হৃষিকেশ রায়ের ডিভিশন বেঞ্চে দায়ের হওয়া এই মামলার শুনানি ছিল।
এদিন এই মামলায় সুপ্রিমকোর্ট আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেয়। বলে, এমন অভিযোগ জমা পড়লে তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের। অর্থাৎ প্রশাসনের কাছে এহেন অভিযোগ এলেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
উল্লেখ্য, তিনদিনের ভারত সফরে এসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের অ্যান্টোনিও গুতেরেস। তিনি ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, ভারতে ঘৃণাভাষণের অভিযোগের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে ভারতে এমন অভিযোগ থাকা একেবারেই কাম্য নয়।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের এহেন মন্তব্যের দু'দিন পরই সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে উল্লেখযোগ্য মতামত জানাল। আরও বলা হয়, 'ভারতের মত ধর্ম-নিরপেক্ষ দেশ হিসেবে এটা হতবাক হওয়ার মতই বিষয়।' বিচারপতিরা বলেন, 'ভারতের সংবিধান জাতি এবং নাগরিকদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের কথা বলে, যা ব্যক্তির মর্যাদা নিশ্চিত করে…'।
সুপ্রিম কোর্টের এই বেঞ্চ আরও জানায়, আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন যে বিভিন্ন কুমার শাস্তিমূলক বিধান থাকা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি এই আদালতকে মৌলিক অধিকার রক্ষা ও সংবিধান সুরক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'
মামলাকারী শাহিন আবদুল্লাহ এদিন শীর্ষ আদালতে আবেদন জানান যে, দেশজুড়ে ঘৃণাভাষণ ও কর্মকাণ্ডের তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হোক কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলির কাছে ঘৃণাভাষণ নিয়ে রিপোর্ট তলব করেছে। তার ঠিক পরেরদিনই এই মামলায় দেশের সকল প্রশাসনের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল শীর্ষ আদালত।