আই-প্যাক (I-PAC) অফিসে ইডি (Enforcement Directorate)-র তল্লাশি ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এবার সুপ্রিম কোর্টের কক্ষে আরও তীব্র হল। বুধবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই মামলার শুনানি আর পিছোবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে করা স্থগিতের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত (I PAC Case Supreme Court)।

শেষ আপডেট: 18 March 2026 16:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আই-প্যাক (I-PAC) অফিসে ইডি (Enforcement Directorate)-র তল্লাশি ঘিরে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত এবার সুপ্রিম কোর্টের কক্ষে আরও তীব্র হল। বুধবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই মামলার শুনানি আর পিছোবে না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে করা স্থগিতের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত (I PAC Case Supreme Court)।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এদিন শুনানি চলাকালীন রাজ্যের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শ্যাম দিবান সময় চেয়ে আবেদন করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ইডি যে ‘রিজয়েন্ডার অ্যাফিডেভিট’ জমা দিয়েছে, তাতে নতুন কিছু অভিযোগ ও তথ্য যুক্ত হয়েছে। সেগুলির জবাব প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন।
কিন্তু ইডির পক্ষের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এই আবেদন তীব্রভাবে বিরোধিতা করেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, এটি শুধুই শুনানি বিলম্ব করার কৌশল। আদালতকে তিনি জানান, চার সপ্তাহ আগেই ওই নথি জমা পড়েছে, ফলে রাজ্যের কাছে পর্যাপ্ত সময় ছিল জবাব দেওয়ার।
এই অবস্থায় শীর্ষ আদালতও রাজ্যের যুক্তিতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আপনারা আদালতকে নির্দেশ দিতে পারেন না। রেকর্ডে যা আছে, সবই বিবেচনা করা হবে।” একইসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এখানে যেন স্থগিতাদেশ নিয়েই লড়াই চলছে।”
রাজ্যের আরেক আইনজীবী মেনাকা গুরুস্বামীও দাবি করেন, ইডির নথিতে নতুন তথ্য রয়েছে, তাই সময় প্রয়োজন। কিন্তু আদালত জানিয়ে দেয়, শুনানি চলবে। ইডি তাদের যুক্তি পেশ করতে পারে, রাজ্য পরে তার জবাব দেবে।
তখন রাজ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, লিখিত জবাব ছাড়াই যুক্তি পেশ করতে হলে তারা ‘হ্যান্ডিক্যাপড’ অবস্থায় পড়বে এবং বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। তবে আদালত সেই যুক্তিও খারিজ করে দেয়।
শেষমেশ আদালত রাজ্যের একটি প্রাথমিক আপত্তি শোনার অনুমতি দেয়—ইডির এই রিট পিটিশন আদৌ গ্রহণযোগ্য কি না, সেই প্রশ্নে আগে শুনানি হবে। যদিও ইডির পক্ষ থেকে বলা হয়, মূল মামলার সঙ্গেই এই বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের অফিসে ও আই প্যাক কর্তা প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের অভিযোগ ঘিরেই এই মামলা দায়ের হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, তাদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল।
এই মামলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তীব্র আইনি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বুধবারের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থান সেই সংঘাতকে আরও এক ধাপ বাড়াল বলেই মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।