ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ওই যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যা বোঝাতে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 11 February 2026 12:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার অশান্তি (Beldanga Incident) মামলায় সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) স্বস্তি মিলল না রাজ্য সরকারের (State Govt)। কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)-র হাতে যে তদন্তভার গিয়েছিল, তা আপাতত বহালই থাকছে। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হবে না। ফলে যেমনভাবে তদন্ত এগোচ্ছিল, তেমনই চলবে। পাশাপাশি বিষয়টি ফের কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের আওতায় পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র (Beldanga Clash) করে। ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ওই যুবকের মৃত্যুর খবর সামনে আসতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিবারের দাবি ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে মারধর করে খুন করা হয়েছে এবং পরে আত্মহত্যা বোঝাতে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা হওয়ায় লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছিল।
এই অভিযোগ ঘিরেই গত ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga Clash)। সুজাপুর-কুমারপুর এলাকায় শুরু হয় বিক্ষোভ। জাতীয় সড়ক অবরোধ, রেল রোকো, ট্রেন থামিয়ে প্রতিবাদ—ক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ভাঙচুর, সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হলেও উত্তেজনা থামানো কঠিন হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়। প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এনআইএ-কে তদন্তভার দেওয়া হয়। সেই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। কিন্তু বুধবার শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপে অনীহা দেখায়।
এদিকে অশান্তির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো ভিডিও খতিয়ে দেখে পুলিশ। ইতিমধ্যেই একাধিক গ্রেফতারি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন।
সব মিলিয়ে, বেলডাঙা কাণ্ডে তদন্তের দিকনির্দেশ নিয়ে আইনি লড়াই এখন নতুন পর্যায়ে। তবে আপাতত স্পষ্ট - এনআইএ তদন্তে কোনও বাধা থাকছে না।