কলকাতায় আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি এবং সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে শুরু থেকেই তর্ক তীব্র হয়। মঙ্গলবার বিচারপতি পি কে মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে ফের এই মামলার শুনানি হয়েছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 24 March 2026 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মধ্যেই মঙ্গলবার আইপ্যাক মামলার শুনানিতে (Supreme Court I-PAC Case Hearing) রাজ্যের আইনজীবী তথা তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Kalyan Banerjee) কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, আদালতের কাজের সময় নির্ধারণ করার অধিকার কোনও পক্ষের নেই।
কলকাতায় আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি এবং সেই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে শুরু থেকেই তর্ক তীব্র হয়। মঙ্গলবার বিচারপতি পি কে মিশ্র ও বিচারপতি এন ভি অঞ্জারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে ফের এই মামলার শুনানি হয়েছে।
শুনানির মাঝেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র একাধিক প্রশ্ন তোলেন। তিনি জানতে চান, “কেন্দ্র ও রাজ্যে ভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকাটা অস্বাভাবিক নয়। ২০৩০ বা ২০৩১ সালে যদি আপনার দলই কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকে এবং সেই অন্য কোনও দলের মুখ্যমন্ত্রী একই কাজ করেন, তখন আপনি কী করতেন?”
বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, মামলা দায়েরের সময় কি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, না কি শুধুমাত্র ইডির আধিকারিকদেরই নিশানা করা হয়েছিল? পাশাপাশি, বফর্স মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেন, “প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে কি বফর্সের মতো উদাহরণ টানতে হবে?”
বিতর্ক আরও বাড়ে যখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অতীতের একটি মন্তব্য টেনে এনে নির্বাচনের সময় আদালতের হস্তক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “অনেক বছর আগে জমি সংক্রান্ত একটি মামলায় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি বলেছিলেন, নির্বাচনের সময় আদালত এই ধরনের মামলা থেকে দূরে থাকবে।”
এই মন্তব্যের জবাবে বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট ভাষায় জানান, আদালতের কাজের সময় বা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করার অধিকার কারও নেই। তাঁর কথায়, “আমরা নির্বাচন থেকেও দূরে থাকব, আবার অপরাধ থেকেও। আপনি (কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়) ঠিক করতে পারেন না। এই ধরনের কথা বলার অনুমতি দিতে পারি না।”
বিচারপতি মিশ্র স্পষ্ট বলেন, “আদালত কোনও রাজনৈতিক দলকে জেতাতে চায় না। আবার আমরা কোনও অন্যায় বা অপরাধের অংশীদারও হতে চাই না। সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই।”
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে শুনানির সময়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিচারপতি পি কে মিশ্র রাজ্যের আইনজীবী কপিল সিবালের উদ্দেশে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) যদি ইডি-র (ED) তদন্তে ঢুকে পড়েন, তাহলে আপনারা বলছেন ইডি রাজ্য সরকারের কাছেই প্রতিকার চাইবে - যার প্রধান আবার মুখ্যমন্ত্রী নিজেই!”
বিচারপতি পিকে মিশ্র এদিন বারবার ইঙ্গিত দেন, এখানে অভিযোগের গুরুত্ব খতিয়ে দেখা দরকার। বিচারপতি বলেন, “আমরা কিছু ধরে নিচ্ছি না, কিন্তু অভিযোগ তো রয়েছেই - তার ভিত্তি আছে বলেই তদন্তের দাবি উঠছে”। বিচারপতি পিকে মিশ্র আরও বলেন, “ইডি-র আধিকারিকদের সঙ্গে যদি অন্যায় হয়ে থাকে, তাহলে তাঁদের অধিকার নিয়েও ভাবতে হবে।”
সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই মামলায় দু'টি আলাদা অভিযোগ রয়েছে - একটি হল বেআইনি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত তদন্ত। অন্যটি সেই তদন্ত চলাকালীন ইডি আধিকারিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ। এই দু'টিকে এক করে দেখা যাবে না।
এদিনের মতো শুনানি শেষ করে আদালত জানিয়ে দিয়েছে, পরবর্তী শুনানি হবে আগামী এপ্রিল মাসে। ফলে নির্বাচনের মুখে এই মামলার গুরুত্ব আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।