দ্য ওয়াল ব্যুরো : "পৃথিবীতে এমন কোনও মানুষে নেই যে ভুল করে না। আপনি কয়েকশ ভাল কাজ করতে পারেন। তা বলে আপনাকে ১০ টি অপরাধ করার লাইসেন্স দেওয়া যায় না।" ৬৩ বছর বয়সী আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে বৃহস্পতিবার এমনই বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অরুণ মিশ্র। সম্প্রতি প্রশান্ত ভূষণ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে ও সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে দু'টি বিতর্কিত টুইট করেন। তার জন্য গত সপ্তাহেই তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এদিন সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে ওই টুইট নিয়ে 'ভেবে দেখার' জন্য দু'দিন সময় দিল। বিচারপতি বলেন, যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। আমরা চাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে অনুশোচনা দেখা দিক।
দেশের প্রথম সারির আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের মামলায় এদিন সুপ্রিম কোর্টের শাস্তি ঘোষণা করার কথা ছিল। কিন্তু প্রশান্ত ভূষণ অনুরোধ করেন, শাস্তিদানের দিনটি পিছিয়ে দেওয়া হোক। তিনি বলেন, "আমাকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে জেনে দুঃখ পেয়েছি। শাস্তি পাব বলে আমি দুঃখ পাইনি। আমাকে সম্পূর্ণ ভুল বোঝা হয়েছে বলে দুঃখ পেয়েছি। আমি মনে করি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধগুলিকে রক্ষা করতে হলে প্রকাশ্যে সমালোচনা করার অধিকার থাকা উচিত।"
শীর্ষ আদালত প্রশান্ত ভূষণকে বলে, আপনি টুইটারে যে মন্তব্য করেছেন, তা ঠিক হয়েছে কিনা ভেবে দেখুন। বর্ষীয়ান আইনজীবী বলেন, "বিচারপতি যদি বলেন তবে আমি নিশ্চয় আমার মন্তব্য পুনর্বিবেচনা করব। তবে মনে হয় না আমার বক্তব্যে মৌলিক কোনও পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে। আমি বিচারপতির সময় নষ্ট করতে চাই না। বিষয়টি নিয়ে আমার আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করব।" বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, "আপনি ওই মন্তব্যগুলি পুনর্বিবেচনা করলে ভাল হয়। সবকিছু আইনের দৃষ্টিতে দেখবেন না।"
এর আগে শুনানির সময় প্রশান্ত ভূষণ বলেন, "আমি সুপ্রিম কোর্টের ভালর জন্যই টুইটারে মন্তব্য করেছিলাম। আমার আর কোনও উদ্দেশ্য ছিল না। আমি মনে করি সুপ্রিম কোর্ট নামক প্রতিষ্ঠানটির ভালর জন্য সকলেরই চেষ্টা করা কর্তব্য। টুইট করে আমি সেই কর্তব্য পালনের সামান্য চেষ্টা করেছি মাত্র।"
বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন প্রশান্ত ভূষণ। তিনি বলেন, "আমি যদি ক্ষমা চাই, তাহলে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কর্তব্য পালন করতে পারব না। আমি কারও দয়া চাই না। আদালত আমাকে যা শাস্তি দেবে তা আমি আনন্দের সঙ্গে মেনে নেব।"
এই মন্তব্যের জবাবে বিচারপতি অরুণ মিশ্র বলেন, "সব কিছুরই একটা লক্ষণরেখা আছে। তা লঙ্ঘন করা উচিত নয়। কেউ যদি মানুষের ভালর জন্য চেষ্টা করেন, আমরা তাঁকে স্বাগত জানাব। কিন্তু এটা খুবই গুরুতর ব্যাপার।" বিচারপতি জানান, তিনি ২৪ বছর ধরে জাজের পদে রয়েছেন। এর আগে কাউকে আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেননি।