দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক যুগ ধরে নিজের সন্তানকে খুন করার দায় বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিলেন তরুণী। নিম্ন আদালত থেকে দিল্লি হাইকোর্টে বহুবার বলেছেন, তিনি খুন করেননি, কিন্তু কেউ বিশ্বাস করেনি তাঁর কথা। শেষমেশ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মা। সেখানেই পেলেন ন্যায় বিচার। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বেকসুর খালাস হলেন তিনি। যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা থেকে মুক্তি পেলেন। ফিরে পেলেন স্বাভাবিক জীবন।
বৃহস্পতিবারই সামনে এসেছে এই রায়ের খবর। অবাক হয়ে গেছেন সাধারণ মানুষ। ১২ বছর ধরে অপরাধের মিথ্যে অভিযোগ চেপে বসেছিল তাঁর উপর। কিন্তু সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিল, যে অভিযোগ আনা হয়েছিল তরুণীর উপরে, তার পুরোটাই সাজানো ও অস্বাভাবিক।
সূত্রের খবর, ২০০৭ সালের ২৪ অগাস্ট কন্যা সন্তানের জন্ম দেন ওই তরুণী। তার পরেই মৃত্যু হয় সদ্যোজাত শিশুকন্যার। তরুণীর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা এর পরেই মায়ের বিরুদ্ধে সন্তানকে খুন করার অভিযোগ দায়ের করেন। দাবি করা হয়, মেয়ে হয়েছে বলে খুন করেছেন তিনি।
পরে ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও জানা যায়, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে ওই সন্তানকে। তরুণী দাবি করেন, তিনি খুন করেননি। কয়েক দিন পরেই অগস্ট মাসের ৩১ তারিখে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ হন তরুণী। সেখানে অপরাধী বলেই সাব্যস্ত করা হয় তাঁকে।
এর পরে ২০১০ সালের মার্চে আবারও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই মহিলা। কিন্তু যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে তাঁর। এত বছর মামলা চলার পরে দমে না গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যান তিনি। সেখানেই প্রমাণিত হয়, মেয়েকে খুন করেননি তিনি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সাক্ষ্যপ্রমাণ বলছে, জন্মের পর থেকেই ওই সদ্যোজাত শিশুকন্যা চোখ খোলেনি, কাঁদেওনি। ফলে, তড়িঘড়ি তাকে অক্সিজেন দিতে ভর্তি করা হয় নিওনেটাল বিভাবে। সেখানেই কোনও ভাবে অক্সিজেনের নল পেঁচিয়ে মৃত্যু হতে পারে শিশুর। কারণ, পরে যখন তাকে মায়ের কোলে দেওয়া হয় তখনই তার দেহে প্রাণ ছিল না বলে প্রমাণিত হয়েছে।
আদালত আরও জানিয়েছে, এক পুত্রসন্তান থাকার পরে মেয়ে হলে কোনও মা তাকে খুন করতে পারেন না।
অভিযোগ থেকে মুক্তি পেয়ে তরুণী জানিয়েছেন, এতগুলো বছর ধরে মিথ্যে কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরেছেন তিনি। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বিচারের প্রতি আবার আস্থা ফিরে পেলেন।