
শেষ আপডেট: 22 July 2022 07:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবিবাহিতা (Unmarried) মহিলাদের (woman) গর্ভপাতের (Terminate Pregnancy) বিষয়ে বৃহস্পতিবার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। ২৪ সপ্তাহের এক অবিবাহিতা অন্তঃসত্ত্বা মহিলার আবেদনের ভিত্তিতে তাঁকে গর্ভপাতের অনুমতি দিল শীর্ষ আদালত।
সম্মতিপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে বিয়ে ছাড়াই গর্ভধারণ করেন আবেদনকারী মহিলা। গত ১৬ জুলাই গর্ভপাত করতে দেওয়ার অনুমতি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট সাফ জানায়, অবিবাহিতা মহিলার ক্ষেত্রে ২০ সপ্তাহের বেশি অন্তঃসত্ত্বা হলে গর্ভপাতের বিধান নেই আইনে। ২৩ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ওই মহিলা গর্ভপাত করালে তা ভ্রূণহত্যার সামিল হবে, এই দোহাই দিয়ে তাঁর আবেদন নাকচ করে দেয় উচ্চ আদালত।
কিন্তু দিল্লি হাইকোর্টের এই রায়ের প্রায় ১৮০ ডিগ্রি উল্টো অবস্থান নিল বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, সূর্য কান্ত এবং এএস বোপান্নার একটি বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায়, শুধুমাত্র বিবাহিত না হওয়ার জন্য ওই মহিলাকে গর্ভপাত করার অনুমতি না দেওয়া অন্যায়। আদালত আরও জানিয়েছে, ২০২১ সালে সংশোধিত মেডিক্যাল টার্মিনেশন অফ প্রেগন্যান্সি অ্যাক্টে 'স্বামী'র বদলে 'সঙ্গী' শব্দটি ঢোকানো হয়েছে, যা থেকে স্পষ্ট, শুধুমাত্র বিবাহিত সম্পর্কের মধ্যে বিষয়টি আটকে রাখার ইচ্ছা আইনসভার ছিল না। 'সঙ্গী' শব্দের ব্যবহারের মধ্যে দিয়ে এই আইনে অবিবাহিতা মহিলাদেরও সংবিধানসম্মতভাবে গর্ভপাতের সুবিধা দেওয়াই আইনসভার উদ্দেশ্য, জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মহিলার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য এইমসের প্রধানকে দুই চিকিৎসকের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। গর্ভপাতের ফলে আবেদনকারিনীর জীবনের ঝুঁকি আছে কিনা, তা শুক্রবারের মধ্যে পরীক্ষা করে এক সপ্তাহের ভিতর রিপোর্ট পেশ করতে বলেছে বিচারপতিদের ওই বেঞ্চ।
ভারতীয়দের স্বদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ, পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া, দুই প্রবণতাই বাড়ছে
আদালত জানিয়েছে, গত জুন মাসে ওই মহিলা সঙ্গীর সম্মতিক্রমে একটি সম্পর্কে ছিলেন। শারীরিক পরীক্ষায় যখন তাঁর গর্ভাবস্থা সামনে আসে, তখন তিনি ২২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। ওই মহিলা কৃষিজীবী পরিবারের সন্তান। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বড়। শুধুমাত্র কলা বিভাগে স্নাতক হয়ে এবং জীবন চালানোর জন্য যথেষ্ট বন্দোবস্ত না থাকায় সন্তান জন্ম দিলে তাকে বড় করতে সমস্যা হবে বলে আদালতকে জানিয়েছিলেন আবেদনকারিনী। সমস্ত বিষয়টিই অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে এবং গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন বিচারপতিরা।
অবিবাহিত মহিলাদের গর্ভপাতের বিষয়ে দেশের শীর্ষ আদালতের এই রায় অত্যন্ত প্রগতিশীল এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।