
শেষ আপডেট: 6 March 2024 00:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা। বাড়ছে তীব্রতাও এবং রাজ্য়ে কোনও প্রাকৃ্তিক দুর্যোগ নেমে এলে সবচেয়ে বেশি করে যে এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার নাম সুন্দরবন।
ফি-বারই বিভিন্ন দুর্যোগের সময় নিরাশ্রয় হয়ে স্থানীয় স্কুলবাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন জলে-জঙ্গলে ঘেরা সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজন। মানুষ থেকে গবাদি পশু, সকলকে থাকতে হয় গাদাগাদি করে। কিন্তু যেখানে তাঁরা আশ্রয় নেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলিরও অধিকাংশের অবস্থা ভঙ্গুর। ফলে অঘটনের আশঙ্কাও থেকে যায়।
তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় মানুষের আশ্রয় নিশ্চিত করতে এ ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে রাজ্য। জানা গেছে ,সম্প্রতি ইউনিসেফের তরফে এ ব্যাপারে রাজ্যকে অনুরোধ করা হয়েছিল। তাতে সহমত জানিয়ে উদ্যোগও গ্রহণ করেছে রাজ্যের অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর। এই উদ্যোগের পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছে, শিশু-বান্ধব দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র।
দফতরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ খান কলকাতার একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন যে এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর উন্নতি করা। এতে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক সময়ে উপকৃত হবে এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা সেগুলি ব্যবহার করতে পারবেন।
ইতিমধ্যে গোসাবা ব্লকের কুমিরমারী নরেন্দ্রপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছে রাজ্য। জেনারেটর, এমার্জেন্সি লাইট, ব্যাটারি চালিত মোবাইল চার্জিং সিস্টেম, হুইল চেয়ার, স্ট্রেচার, মেডিকেল বক্স এবং বয়স্ক, মহিলা ও শিশুদের জন্য উন্নত টয়লেট পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। ধীরে ধীরে গবাদিপশুদের আশ্রয় এবং সুরক্ষার উপরও জোর দেওয়া হবে বলে মন্ত্রী জানান।
দফতর সূত্রের খবর, একটি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে সরকারের তিন কোটি টাকা খরচ হয়। সেখানে শুধুমাত্র তিন লক্ষ টাকা খরচে স্কুল ভবনগুলিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গ্রামবাসীদের উন্নত মানের জীবনযাত্রা প্রদান করা যাবে। বাকি সময় উন্নত পরিকাঠামোর সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারাও। সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন ইউনিসেফের পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রধান প্রভাত কুমার।