
শেষ আপডেট: 12 January 2024 21:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুর বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকে ইডি তল্লাশি অভিযানে নামে। সেই তল্লাশি চলাকালীন বিরোধী শিবির থেকে লাগাতার ভেসে আসে নানান টিপ্পনি। এমনকি বিজেপি নেতাদের কেউ কেউ বলেন, সুজিত বসু তো এগরোল বেচতেন। বুর্জ খলিফায় পৌঁছে গেলেন এমনি এমনি? ওঁর আয়ের উৎস্য কী!
সংবাদমাধ্যমে বিরোধী নেতাদের এই সব টীকা টিপ্পনি যখন চলতে থাকে, তখন সুজিত টিভিতে তা দেখতে পেরেছিলেন কিনা স্পষ্ট নয়। তবে ইডি বেরিয়ে যেতেই তাঁর কানে সে সব কথা পৌঁছতে সময় লাগেনি। রাত ৯টা নাগাদ সাংবাদিক বৈঠক করে সুজিত বলেন, “হ্যাঁ আমি এগরোল বেচতাম। গর্বের সঙ্গে সেটা স্বীকার করছি।”
সুজিতের কথায়, ৪৫ বছর ধরে রাজনীতি করছি। সিপিএম করতাম। এলাকায় একটা মাঠের ব্যাপার নিয়ে দল ছেড়েছিলাম। তার পর নির্দল প্রার্থী হিসাবে জিতেছি। দশ বার জিতেছি। সাত বারের কাউন্সিলর। তিন বার বিধানসভায় জিতেছি। এক বার লোকসভা ভোটেও লড়েছি।
সুজিতের কথায়,“শুভেন্দু যে বলছেন আমি এগরোল বেচতাম, উনি তো প্রধানমন্ত্রীকেই অসম্মান করছেন। নরেন্দ্র মোদীও তো চা বেচতেন”।
পুরনো বাড়ি ছেড়ে সুজিত এখন একটা বহুতলে থাকেন। তাঁর ও পরিবারের জীবনযাপনের মান কী তা তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানেন। সুজিত এদিন বোঝাতে চান, এ পর্যন্ত তাঁর রাজনৈতিক জীবন একেবারেই দুর্নীতিমুক্ত। তাঁর কথায়, “কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন কারও কাছ থেকে ১ পয়সাও নিয়েছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দেব।”
তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গে সুজিত বলেন, ইডি জানিয়েছে যে আদালতের নির্দেশে তাঁরা কিছু তদন্ত করছেন। যে সময়ে পুর নিয়োগ হয়েছে বলা হচ্ছে, তখন আমি দায়িত্বে ছিলাম না। সেই ব্যাপারে কাগজপত্রও ওদের দিয়েছি।
ইডি সূত্রে দাবি করা হচ্ছিল, পুর নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত সূত্রে যে অয়ন শীলকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁকে জেরা করে কিছু নাম পাওয়া গিয়েছে। অয়ন শীলের ডায়েরিতে লেখা ছিল ‘এসবি’। জবাবে দমকল মন্ত্রী এদিন বলেন, যার নাম করছেন, তাকে চিনি না। কখনও দেখিনি। আর এসবি বললে শুধু সুজিত বসু কেন হবে, এস দিয়ে নাম তো শুভেন্দু, সুকান্তরও।
মোদ্দা বিষয় হল, ইডি অফিসাররা বেরিয়ে যাওয়ার পর এদিন সাহসী মুখ দেখিয়েছেন সুজিত বসু। সেই সঙ্গে বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে জনজীবনে রয়েছেন। তাই এর পরেও ইডি বা সিবিআই যদি তাঁকে ডাকে তাহলে যেতে আপত্তি নেই।
তবে হ্যাঁ, সুজিত এও বলেন, “আমি জনপ্রতিনিধি। মানুষের সুবিধা অসুবিধায় পাশে দাঁড়ানোই কাজ। সেই কাজের জন্য যদি জেলে গিয়ে পচতেও হয়, আমি রাজি আছি”।