
শেষ আপডেট: 30 January 2024 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বারবার। দিদিকে বলোতেও ফোন করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবুও মিডডে মিল খাওয়ার ঘর জোটেনি। বছরের পর বছর ধরে ফাঁকা মাঠে বসেই মিডডে মিল খায় কৈচর ষোড়শীবালা বালিকা বিদ্যামন্দিরের কন্যাশ্রীরা।
কেন্দ্রের ’বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প চালু। রাজ্যে রয়েছে “কন্যাশ্রী’ প্রকল্প। তাতে অবশ্য অর্ধশতাব্দী পার করা মঙ্গলকোটের কৈচরের মেয়েদের স্কুলের দুর্দশা ঘোচেনি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই স্কুলের ছাত্রীদের মিডডে মিল খাওয়ার একটা ঘর পর্যন্ত নেই। তাই বছরের পর বছর কৈচর ষোড়শীবালা বালিকা বিদ্যামন্দিরে পাঠরত কন্যারা শ্রেণিকক্ষের বাইরে ফাঁকা মাঠে বসেই মিডডে মিল খেতে বাধ্য হচ্ছে।
বর্ধিষ্ণু গ্রাম হিসাবেই পরিচিত মঙ্গলকোটের কৈচর। এলাকার শিক্ষানুরাগী মানুষজনের হাত ধরে ১৯৬৪ সালে কৈচর গ্রামে ষোড়শীবালা বালিকা বিদ্যামন্দির তৈরি হয়েছিল। আশপাশের ক্ষীরগ্রাম, কানাইডাঙা সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মেয়েরাও এই স্কুলেই আসে লেখাপড়া করতে। শুরু থেকেই নানা সমস্যা ছিল। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তার কিছু মিটেছে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি মেনে মিডডে মিল খাওয়ার একটা ঘর আর কিছুতেই পাচ্ছে না ছাত্রীরা।
টিফিনের ঘণ্টা পড়লেই থালা হাতে নিয়ে ছাত্রীরা সোজা চলে যায় মিডডে মিলের রান্নাঘরে। এই রান্নাঘরের অবস্থাও তথৈবচ। সেখান থেকে খাবার নিয়ে খোলা আকাশের নীচে ফাঁকা মাঠে দল বেঁধে বসে ছাত্রীরা। শীত-গ্রীষ্ম কোনওভাবে কাটলেও বর্ষায় থালা নিয়ে আশ্রয় নিতে হয় ক্লাসঘরে। বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা ছাত্রীদের এই দুর্দশায় ক্ষুব্ধ শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মী ও অভিভাবকরা। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা গার্গী সামন্ত জানান, ’দিদিকে বলো’ ফোন নম্বরে ফোন করেও স্কুলের ছাত্রীদের মিডডে মিল খাওয়ার একটা ঘরের ব্যবস্থা করে দেওয়ার অনুরোধ রাখেন তাঁরা। সমাজমাধ্যমেও সরব হন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি। তিনি বলেন, “অনেক দিন আগে আমরা ব্লক অফিস থেকে মাত্র ১০ হাজার টাকা পেয়েছিলাম। সেই টাকা দিয়ে মিডডে মিলের রান্নাঘরটা শুধুমাত্র একটু সংস্কার করা গেছে।” অভিভাবকরা অবশ্য চাইছেন, কারও মুখাপেক্ষী না হয়ে শিক্ষিকারাই তাঁদের বেতন থেকে কিছু কিছু করে টাকা দান করে স্কুলের ছাত্রীদের মিডডে মিল খাওয়ার একটা ঘরের ব্যবস্থা করে ফেলুক।
এ ব্যাপারে মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, “ষোড়শীবালা বালিকা বিদ্যামন্দিরের পাঁচিল ও দু’টি ঘর আগেই করে দেওয়া হয়েছে। ছাত্রীদের মিডডে মিল খাওয়ার ঘর যাতে তৈরি হয় তার জন্যে সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো রয়েছে। আশা করছি সেটাও খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।”