
শেষ আপডেট: 28 December 2022 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর মাত্র ৩ দিন। তারপরেই নতুন বছরের আগমনে উৎসবে মাতবেন রাজ্য তথা দেশবাসী। বছর শেষ আর বর্ষবরণ উদযাপনের অন্যতম অংশ হল বাজি আর গান বাজনা। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসবের আওয়াজ সহ্যের সীমা অতিক্রম করে যায় (noise pollution), যার ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন মানুষজন। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন অসুস্থ মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। সেই শব্দতাণ্ডব থেকে বাঁচতে আগেভাগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে চিঠি লিখলেন শহরের অন্তত জনা পঞ্চাশেক বরিষ্ঠ নাগরিক (kolkata Elderly citizens write to chief minister)।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পিটিশন জমা দিয়েছেন কলকাতার ৫০ জন বিশিষ্ট এবং বয়স্ক নাগরিক যাঁদের মধ্যে রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন শেরিফ এবং ইএনটি বিশেষজ্ঞ দুলাল বোস, বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির প্রাক্তন প্রধান সমর বাগচি, পরিবেশবিদ শুভেন্দু দাসগুপ্ত, অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ পাবলিক হেলথ এন্ড হাইজিনের প্রাক্তন ডিরেক্টর অরুনাভ মজুমদার, সাংবাদিক বুড়োশিব দাসগুপ্ত, ডব্লুডব্লুএফ ইন্ডিয়ার বেঙ্গল চ্যাপ্টারের ডিরেক্টর শাশ্বতী মুখোপাধ্যায় এবং আরও অনেকে।
চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, 'আমরা কয়েকজন উদ্বিগ্ন প্রবীণ নাগরিক, যাঁরা সবুজ মঞ্চ নামক সংগঠনের মাধ্যমে একটি অত্যন্ত গুরুতর সমস্যা নিয়ে আপনার কাছে দরবার করছি। আমরা নতুন বছরের আগমন উপলক্ষে আতসবাজি, শব্দবাজি, মিউজিক সিস্টেম, এমপ্লিফায়ার, লাউডস্পিকার ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে শহরের দূষণের মাত্রা বিপুল বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করছি। আমরা এই বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করছি। হাজার আইনি নির্দেশিকা সত্ত্বেও উৎসবের সময় মাত্রাছাড়া শব্দদূষণ এখন নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশিরভাগ প্রবীণ নাগরিকই নানারকম শারীরিক অসুস্থতায় ভোগেন, যা লাউডস্পিকারে শব্দে আরও বেড়ে যায়।'
দুলাল বোস জানিয়েছেন, শব্দদূষণের সমস্যা সারা বছরই থাকে, কিন্তু উৎসবের সময় তা লাগামছাড়া হয়ে যায়। সবার উপরেই তা প্রভাব ফেললেও বয়স্করা বেশি কষ্ট পান।
সবুজ মঞ্চের সেক্রেটারি নব দত্ত জানিয়েছেন, ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইবুনালের নির্দেশ অনুযায়ী দূষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ড শুধুমাত্র বিশেষ বিশেষ দিনে পরিবেশবান্ধব বাজি ব্যবহার এবং শব্দসীমার মধ্যে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া সত্ত্বেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেসব মানা হয় না। 'আমরা সবাই দেখেছি কীভাবে ক্রিকেট এবং ফুটবল বিশ্বকাপের সময় এবং অন্যান্য উৎসব অনুষ্ঠানে সেই নিয়ম ভাঙা হয়। পুলিশ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রক বোর্ড সব জেনেও কোনও ব্যবস্থা নেয় না,' দাবি তাঁর।
'বয়স্কদের, বিষেশত যাঁরা ঘুমের ওষুধ খান, তাঁদের উত্তেজনার সহনসীমা অন্যান্যদের তুলনায় কম। তাই অসময়ে যে কোনও রকমের শব্দ, বিশেষ করে শীতের রাতে যখন শব্দ বেশি দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাঁদের ঘুমের ধরনকে প্রভাবিত করতে পারে। তা থেকে বিভিন্ন রকমের শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা হতে পারে,' জানিয়েছেন ঘুম বিশেষজ্ঞ অনুপ হালদার।
এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশ মন্ত্রী মানস ভুইঁয়া জানিয়েছেন, 'সকলেরই চিঠি লেখার অধিকার আছে। আমি চিঠিটি পড়ার পরেই এই বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব।'
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গ্রিন ট্রাইবুনালের কাছে একটি হলফনামা দাখিল করেছে, যা থেকে জানা গেছে শুধুমাত্র গ্রামীণ হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুর ছাড়া রাজ্যের কোথাও পুলিশ দীপাবলির সময় ডিজে বক্স এবং লাউডস্পিকারের কারণে শব্দসীমা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ আসা সত্ত্বেও একটিও মামলা দায়ের করেনি।
তথ্যসূত্র: দ্য প্লুরাল্স নিউজ নেটওয়ার্ক
রাহুলের নিরাপত্তায় ফাঁক থাকছে, ঠাকুমা-বাবার কথা স্মরণ করিয়ে শাহকে চিঠি কংগ্রেসের