স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিবসে রাজ্যজুড়ে পালিত যুব দিবস, বেলুড় মঠ থেকে সিমলা স্ট্রিটে নানা অনুষ্ঠান। পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক তরজা, উঠল ‘গরু চোর’ স্লোগান।

স্বামীজির বাড়ির শুভেন্দু অধিকারীর শ্রদ্ধাজ্ঞাপন
শেষ আপডেট: 12 January 2026 11:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ স্বামীজির জন্মবার্ষিকী। ৪২ তম যুব দিবস। এই উপলক্ষে দিনভর অনুষ্ঠান বেলুড় মঠে। সোমবার মঙ্গলারতির মধ্যে দিয়ে পুজোর সূচনা হয়। নানা অনুষ্ঠান রয়েছে গোটা দিন। স্বামীজির মন্দিরেও নানা অনুষ্ঠান হচ্ছে। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা-প্রভারফেরি সবই রয়েছে তালিকায়। বহু মানুষ ইতিমধ্যেই বেলুড়মঠে উপস্থিত হয়েছেন।
বেশ কিছু স্কুলের ছাত্ররা এসেছে সকাল সকাল। ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শুধু বেলুড় মঠ নয় রাজ্যের প্রায় সব রামকৃষ্ণ মঠেই সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে স্বামীজির জন্মবার্ষিকী।
বিজেপির পক্ষ থেকে ‘বিবেক যাত্রা’ (Vivek Yatra) আয়োজন করা হয় এদিন সকালে। শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)-সহ বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা হেদুয়া থেকে মিছিল করে স্বামীজির বাড়িতে যান। মাল্যদান শেষে শ্যামবাজার পর্যন্ত মিছিল হয়।
অন্যদিকে, যুব দিবসে তৃণমূলও স্বামীজিকে শ্রদ্ধা জানায়। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা (Shashi Panja) সকালে শিমলা স্ট্রিটে গিয়ে স্বামীজির প্রতিকৃতিতে মালা দেন। তৃণমূলের তরফেও রাজ্যজুড়ে নানা কর্মসূচি হয়।
তবে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যেও পাল্টাপাল্টি স্লোগানে সরগরম হয়ে ওঠে এলাকা। বিজেপির অভিযোগ, স্বামীজির স্মৃতিবিজড়িত স্থানে রাজনৈতিক প্রচার অমর্যাদাকর। পাল্টা তৃণমূলের দাবি, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ মেনেই তাদের কর্মসূচি, বিজেপি ইচ্ছে করেই বিতর্ক তৈরি করছে। সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, “বিবেকানন্দের মাটিতে ফাইল চোর, গরু চোর ডাকছে তৃণমূল।”
পাল্টা তৃণমূলের তরফে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলা হয়, “নোট চোর, ভোট চোর, দেশ চোর বিজেপি”, এই স্লোগান তুলে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শকে সম্মান জানিয়েই তাঁদের কর্মসূচি এবং বিজেপি অযথা বিতর্ক তৈরি করছে।
পোস্টার ঘিরেও রাজনীতি বাদ যায় না। বিজেপির অভিযোগ, বাড়ির সামনে পুরোটাই দখল করেছে তৃণমূল। অভিষেককে 'যুবরাজ' সম্বোধন করে পোস্টার পড়ে। নিষেধ করা সত্ত্বেও কথা শোনেনি শাসক শিবির। তৃণমূলের পোস্টার শেষের পর অর্থাৎ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পোস্টার পড়ে বিজেপির। সেই পোস্টার খুলে দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করো। মাথা উঁচু করে দাঁড়াও। গর্ব করে বলো আমি হিন্দু—স্বামীজির উক্তিগুলো নিয়েই আজ এখানে চর্চা হওয়া উচিত। স্বামীজি আসল যুবরাজ, আর কেউ নন।” তিনি জানান, দীর্ঘ ২২ বছর বয়স থেকে তিনি সাধারণ মানুষ হিসেবে স্বামীজির বাড়িতে আসেন। এই নিয়ে রাজনীতি একেবারেই কাম্য নয়।
স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিনে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি এই রাজনৈতিক তরজা ফের একবার প্রমাণ করল, বাংলার রাজনীতিতে প্রতিটি দিনই রণক্ষেত্রের চেহারা নিচ্ছে।