তেল ছড়িয়ে পড়লে কীভাবে দ্রুত তা সরানো যাবে, কীভাবে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব— সব কিছুরই রূপরেখা তৈরি করা হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 13 September 2025 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গোপসাগর কিংবা রাজ্যের নদীতে তেলবাহী ভেসেল দুর্ঘটনায় পড়লেই সর্বনাশ। মুহূর্তে বিপুল পরিমাণ তেল মিশে যায় জলে। একদিকে যেমন বাড়ে দূষণ, তেমনই ক্ষতিগ্রস্ত হয় পরিবেশ, মাছ, জলজ প্রাণী থেকে শুরু করে মানুষের জীবিকাও। সেই সম্ভাব্য বিপর্যয়ের মোকাবিলায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে চাইছে নবান্ন (state's new strategy to prevent oil vessel accidents)।
এ ব্যাপারে ‘অয়েল স্পিল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান’ তৈরি করছে রাজ্য (Special Management Plan)।
পশ্চিমবঙ্গের উপকূল রেখা প্রায় ১৫৮ কিলোমিটার দীর্ঘ। তার সঙ্গে আছে অসংখ্য নদী। কোথাও তেলবাহী ভেসেল ডুবলেই বিপর্যয় নামবে নদী-সমুদ্রের জলে। সেই আশঙ্কাই এবার নবান্নকে নড়েচড়ে বসিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে চেয়ারম্যান করে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা, জনস্বাস্থ্য কারিগরি, মৎস্য, সেচ, ক্ষুদ্র সেচ, পরিবহণ, স্বরাষ্ট্র, পরিবেশ, শ্রম দফতরের সচিবরা। এ ছাড়াও সদস্য হয়েছেন কোস্ট গার্ড ও শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি পোর্টের কর্তারা।
শুক্রবার মুখ্যসচিবের দফতরে এই কমিটির প্রথম বৈঠক বসে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, উপকূল ও নদীপথে সম্ভাব্য দুর্ঘটনার মোকাবিলায় নির্দিষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করবে রাজ্য। তেল ছড়িয়ে পড়লে কীভাবে দ্রুত তা সরানো যাবে, কীভাবে ক্ষতি সীমিত রাখা সম্ভব— সব কিছুরই রূপরেখা তৈরি করা হবে। মুখ্যসচিব বৈঠকে জানিয়েছেন, ‘‘বিপর্যয় আসার পর নয়, আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়াই রাজ্যের লক্ষ্য।’’
এদিনের বৈঠকে শুধু তেল বিপর্যয় নয়, অবৈধ বালি খাদান নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্যসচিব। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বেপরোয়া বালি কারবারে একাধিক সেতু ক্ষতির মুখে। পরিবেশের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার সমস্যাও বাড়ছে। তাই জেলা শাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বালি খাদান বন্ধ করতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ করতে হবে।