নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর খড়গপুর পুর এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগে পুরসভার একাধিক মৌলিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ার কথা তুলে ধরা হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 December 2025 18:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিক পরিষেবায় চরম অব্যবস্থার অভিযোগে এ বার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার (State Govt)। পশ্চিম মেদিনীপুর (Pashchim Medinipur) জেলার খড়গপুর পুরসভাকে (Kharagpur Municipality) শোকজ নোটিস পাঠাল রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দফতর। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে নোটিসে।
নবান্ন (Nabanna) সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর খড়গপুর পুর এলাকার বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে। সেই অভিযোগে পুরসভার একাধিক মৌলিক পরিষেবা কার্যত ভেঙে পড়ার কথা তুলে ধরা হয়। অভিযোগ, প্রায় এক বছর ধরে এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের জোগান নেই। শুধু তাই নয়, যে জল সরবরাহ করা হচ্ছে, তার গুণমান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাসিন্দারা।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ না হওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় নোংরা জমে রয়েছে। নিকাশি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ অনিয়মিত হওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একাধিক ওয়ার্ডে রাস্তার আলো বসানো ও রক্ষণাবেক্ষণেও গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে, সাধারণ নাগরিকদের অভিযোগ বা সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের বারবার আবেদন সত্ত্বেও পুর কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনও পদক্ষেপ করেনি। রাজ্য সরকারের প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই অভিযোগগুলির সত্যতা মিলেছে বলেই জানা গেছে।
নগরোন্নয়ন দফতরের নোটিসে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ পুর আইন, ১৯৯৩ অনুযায়ী নাগরিকদের যে ন্যূনতম পরিষেবা দেওয়ার দায়িত্ব পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলরদের, তা পালনে গুরুতর অবহেলা হয়েছে। সেই কারণেই পুর আইনের ৪৩১ ধারার অধীনে শোকজ নোটিস জারি করা হয়েছে।
নোটিসে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কেন খড়গপুর পুরসভার বোর্ড অব কাউন্সিলরদের ভেঙে দেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা সাত দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দিতে হবে। রাজ্যপালের নির্দেশে জারি হওয়া এই নোটিস ঘিরে খড়গপুরের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।