
৩ মাসের মধ্যে প্রাথমিকে ২৬ হাজার নতুন নিয়োগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
শেষ আপডেট: 3 April 2025 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বিশাল ধাক্কার মুখে রাজ্যের শিক্ষক মহল। দীর্ঘদিনের টানাপড়েনের পরে আজ, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগের প্যানেল বাতিল করা নিয়ে গত বছর এপ্রিলে কলকাতা হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বহাল রাখা হল। বাতিল হল ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগের প্যানেল।
তবে এই রায় বহাল রাখলেও, তাতে খানিকটা বদল বা 'মডিফিকেশন'ও করেছে সুপ্রিম কোর্ট। জানানো হয়েছে, ২০১৬ সালের এসএসসিতে যাঁরা পরীক্ষা দিয়েছিলেন, তাঁরাও ফের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে তাঁদের বয়সের সীমাও শিথিল করতে হবে সরকারকে। এই সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য ৩ মাসের ডেডলাইনও বেঁধে দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছেন, এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত সকলে পুরনো কাঠামোতেই বেতন পাবেন। এর পরে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যাঁরা বিবেচিত হবেন, তাঁরা আবার চাকরিতে ফিরে যাবেন।
ফলে ২৬ হাজার প্রার্থীর চাকরি খোয়া গেলেও সকলকেই যে এই মুহূর্তে বেতন ফেরত দিতে হচ্ছে, তা নয়। কারচুপি করেছেন বলে যাঁদের চিহ্নিত করা হয়েছে, এই মুহূর্তে কেবল তাঁরাই বেতন ফেরত দেবেন। এবং তাঁরা নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় কোনওভাবেই বসতে পারবেন না।
শুধু তাই নয়, যেসব সরকারি কর্মীরা অন্য সরকারি দফতর থেকে শিক্ষা দফতরের এই পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছিলেন, তাঁরা ফের পুরনো জায়গায় যোগদান করতে পারবেন। আর এই কাজ করতে হবে আগামী ৩ মাসের মধ্যেই। এত বড় ধাক্কার মুখে সামান্য স্বস্তি বলতে এটুকুই।
২০১৬ এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল সেই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল। এর ফলে চাকরি হারান ২৫ হাজার ৭৫৩ জন। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার। এছাড়া আলাদা করে মামলা করে রাজ্যের শিক্ষা দফতর, এসএসসি এবং মধ্যশিক্ষা পর্ষদও। দফায় দফায় মামলা করেন চাকরিহারারাও। এর আগে সুপ্রিম কোর্ট চাকরি বাতিলে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দিল শীর্ষ আদালত।
এই মামলার মূল ইস্যুই ছিল, কীভাবে যোগ্য এবং অযোগ্যদের আলাদা করা সম্ভব। আসল উত্তরপত্র বা ওএমআর সিট উদ্ধার করা যায়নি বলে কোন ওএমআর সিটকে আসল ধরা হবে তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। শীর্ষ আদালতেরও পর্যবেক্ষণ ছিল, এই মামলায় আসল তথ্য জানা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই সবকিছু মাথায় রেখেই মামলায় রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট।
আজকের শুনানিতে অবৈধ শিক্ষকদের বেতনের টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট জানিয়েছে, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে তাঁদের এতদিনের বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই নিয়োগে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতি হয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে মূল মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ফের পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, এই দুর্নীতি এমনভাবে করা হয়েছে যাতে কেউ অবৈধ নিয়োগ খুঁজে বার না করতে পারে। তিনি বলেছিলেন, এত বড় নিয়োগ দুর্নীতির 'স্পনসর' খোদ রাজ্য সরকার! তাই পুরো প্যানেল বাতিল করেই নতুন করে নিয়োগ করা উচিত। এখন দেখা গেল, সেই যুক্তিই মেনে নিয়েছে শীর্ষ আদালত।