SSC নিয়োগ দুর্নীতির প্রেক্ষিতে রাজ্যে বদলাচ্ছে শিক্ষক নিয়োগের নিয়ম। ওএমআর শিট সংরক্ষণ, বয়সসীমা, নম্বর ভাগ ও অভিজ্ঞতা মূল্যায়নে বড় রদবদল আনল স্কুল শিক্ষা দফতর।
.jpeg.webp)
এসএসসি ভবন।
শেষ আপডেট: 30 May 2025 08:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির বিপুল চাপে অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফতর। নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মে আনা হল বড়সড় পরিবর্তন। প্রকাশিত হল নতুন বিজ্ঞপ্তি, যেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেল ওএমআর পত্র সংরক্ষণ পদ্ধতি, বয়সসীমা, নম্বর বণ্টন ও নিয়োগের মানদণ্ড।
OMR পত্র সংরক্ষণে সময়সীমা বৃদ্ধি
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট স্ক্যান করে ডিজিটাল কপিগুলি ১০ বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি, ওএমআর-এর হার্ড কপিগুলি ২ বছর পর্যন্ত রাখা বাধ্যতামূলক। এতদিন পর্যন্ত এই হার্ড কপিগুলি মাত্র ১ বছর সংরক্ষণের নিয়ম ছিল।
বয়সসীমায় পরিবর্তন, বিশেষ ছাড় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে
নিয়োগ পরীক্ষায় বসার সর্বনিম্ন বয়সসীমা ২০ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়েছে। অর্থাৎ এখন থেকে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বয়সে বিশেষ ছাড়ও প্রযোজ্য হবে।
নতুন নম্বর বিভাজন: গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা ও লেকচার ডেমো
নম্বর ভাগাভাগিতে বড়সড় রদবদল করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার জন্য বরাদ্দ থাকছে ১০ নম্বর, এবং লেকচার ডেমোনস্ট্রেশনের জন্যেও নির্দিষ্টভাবে ১০ নম্বর বরাদ্দ। অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষার বাইরে হাতে-কলমে শিক্ষকতার দক্ষতাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অ্যাকাডেমিক নম্বর বণ্টনে বদল
পূর্বে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নম্বরের ভিত্তিতে মোট ১০ নম্বর বরাদ্দ থাকত। এখন সেই পরিবর্তিত হয়ে শুধুমাত্র স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে এই ১০ নম্বর নির্ধারিত হবে।
সরকারি বা সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে অভিজ্ঞদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা
যাঁদের সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলে পড়ানোর পূর্ব-অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁদের জন্য বরাদ্দ থাকছে বছরে ২ নম্বর করে অতিরিক্ত। অর্থাৎ অভিজ্ঞ প্রার্থীরা এই ব্যবস্থায় বাড়তি সুবিধা পাবেন।
প্যানেলের মেয়াদে ছ'মাসের বর্ধিত সময়সীমা
নিয়োগ প্যানেলের কার্যকারিতা এতদিন ছিল ১ বছর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সেই মেয়াদে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় বাড়ানো হয়েছে, ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আরও নমনীয়তা ও স্থিতিশীলতা আসবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
‘কম অ্যাকাডেমিক স্কোর’ প্রার্থীদের জন্যও রাখা হয়েছে সুযোগ
আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, নতুন নিয়মে যাঁদের অ্যাকাডেমিক ফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল, তাঁদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। পূর্বে যেখানে ৩৫ শতাংশ একাডেমিক স্কোরের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচিত হতে পারতেন, এখন সেই হার কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি লেকচার ডেমোনস্ট্রেশন ও ইন্টারভিউতে ভাল পারফর্ম করেন, তবে ৩য় বিভাগেও থাকা প্রার্থীকে ২০-র মধ্যে ২০ নম্বর দিয়ে নির্বাচিত করা সম্ভব। এটি একটা বাস্তবদর্শী পদক্ষেপ।”
চাকরি বাতিলের পর নয়া উদ্যোগ
উল্লেখ্য, এসএসসি দুর্নীতির জেরে ইতিমধ্যেই প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে এই নতুন নিয়মগুলি কার্যকর করা হয়েছে বলে মনে করছে শিক্ষা দফতর। বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিয়োগ বিধির মাধ্যমে আগামী দিনে নিয়োগ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর একটি বড় পদক্ষেপ নিল সরকার।